জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ৫ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৭ পিএম
দেশের চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাঁচ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে- দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি, সিসমিক জরিপ, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডকে শক্তিশালী করা, উৎপাদন অংশীদারি চুক্তি ও দরপত্র এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের অবকাঠামো সম্প্রসারণ।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান না করা এবং আমদানিনির্ভরতার কারণে দেশে বর্তমান জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এ সংকট থেকে দেশকে বের করে আনতে সরকার সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
তিনি জানান, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ১৫০টি কূপ খনন ও সংস্কারের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ৩০টি কূপ খননের কাজ শেষ হয়েছে। এসব কূপের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন ১৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে চলমান আরও ৭টি কূপের খনন শেষ হলে অতিরিক্ত ৮৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।
দেশীয় গ্যাসের নতুন উৎস অনুসন্ধানে ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার দ্বিমাত্রিক এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার ত্রিমাত্রিক সিসমিক জরিপ পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডকে আরও শক্তিশালী করতে দুটি নতুন রিগ কেনার প্রক্রিয়া চলছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমুদ্রাঞ্চলে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য ২০২৬ সালের অফশোর উৎপাদন অংশীদারি চুক্তি অনুমোদনের পর দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থলভাগের জন্য উৎপাদন অংশীদারি চুক্তি অনুমোদনের প্রক্রিয়াও চলছে।
তিনি বলেন, অফশোর ও অনশোর গ্যাস অনুসন্ধানের মাধ্যমে নতুন গ্যাসের মজুত পাওয়া গেলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এ ছাড়া কক্সবাজারের মহেশখালীর কুতুবজোমে গভীর সমুদ্রে ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস টার্মিনাল স্থাপনের জন্য আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ওই টার্মিনাল থেকে পুনঃগ্যাসীকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আরও জানান, আগামী দুই বছরের মধ্যে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি দৈনিক আরও ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট বাড়বে। পাশাপাশি পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা অথবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলে জরুরি ভিত্তিতে আরও এক থেকে দুটি ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত এসব টার্মিনাল স্থাপন করা হলে দেশের সামগ্রিক জ্বালানি নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বের জন্য নির্ধারিত ছিল।