১১ থেকে ২০তম গ্রেডে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর কারণ জানালেন তথ্য উপদেষ্টা

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩২ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

সরকারি চাকরিতে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে নিয়োগের ক্ষেত্রে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে দক্ষ ও যোগ্য প্রশাসনিক জনবল নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই। এমনটাই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ভাইভার নম্বর বাড়ানোর কারণ জানতে চাইলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এটি কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে কিংবা বৈষম্য তৈরির জন্য করা হচ্ছে না। দক্ষ ও যোগ্য প্রশাসনিক জনবল নিশ্চিত করতেই সরকার এ পরিবর্তন এনেছে।

উল্লেখ্য, মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং এর আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থায় ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় সমান নম্বর নির্ধারণ করা হচ্ছে। অর্থাৎ লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় ৫০:৫০ নম্বর রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রক্সি পরীক্ষা ও জালিয়াতি ঠেকানোর যুক্তি দেখিয়ে রোববার প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটির সভায় এ বিষয়ে একটি বিধিমালার অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটির সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি ও জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরি পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে প্রকৃত চাকরিপ্রত্যাশীরা বঞ্চিত হচ্ছেন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে।

এ ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে অন্যান্য যোগ্যতার পাশাপাশি লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় সমান নম্বর রাখা প্রয়োজন বলে সারসংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ‘পরীক্ষার মানবণ্টন বিশেষ বিধিমালা ২০২৬’ প্রণয়নের প্রস্তাব করা হয়।

এর আগে বিভিন্ন দপ্তরের নিয়োগবিধির মধ্যে সামঞ্জস্য আনতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. হুমায়ুন কবীরকে সভাপতি করে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে সরকার। কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ এবং লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের প্রতিনিধিদের রাখা হয়। এই কমিটিই মূলত লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ৫০:৫০ করার সুপারিশ করেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির সভাপতি মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের জনবল নিয়োগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর কত করার সুপারিশ করা হয়েছে, তা এ মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি অনুবিভাগে খোঁজ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মোস্তফা জামান দেশের বাইরে থাকায় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, লিখিত পরীক্ষায় কোনোমতে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের দলীয় বা ব্যক্তিগত বিবেচনায় চাকরি দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতেই বিধিমালায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তাদের মতে, আগে সাধারণত লিখিত পরীক্ষা ৭৫ বা ৮০ নম্বরের এবং মৌখিক পরীক্ষা ২০ বা ২৫ নম্বরের হতো। ফলে লিখিত পরীক্ষায় কম নম্বর পাওয়া কোনো প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষায় বেশি নম্বর দিয়েও চাকরি দেওয়া তুলনামূলক কঠিন ছিল।

কিন্তু নতুন নিয়মে লিখিত পরীক্ষায় সর্বনিম্ন ৩০ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ কোনো পছন্দের প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষায় ৫০ নম্বরের মধ্যে বেশি নম্বর দিয়ে চাকরি দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, এর ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগ বাড়তে পারে।

সাবেক সচিব একেএম আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেন, বাংলাদেশে অপ্রত্যাশিতভাবে কোনো কিছুই স্বচ্ছ হয় না। এ ধরনের বিধিমালা প্রণয়ন করা হলে নিয়োগে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা বাড়তে পারে। তার মতে, লিখিত পরীক্ষায় ৮০ এবং মৌখিক পরীক্ষায় ২০ নম্বর রাখাই বাঞ্ছনীয়।

সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া বলেন, দলীয় লোক নিয়োগের সুযোগ তৈরির জন্য এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, যা প্রশাসনের জন্য কোনো সুফল বয়ে আনবে না। এতে দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার পথ আরও সুগম হবে। একই সঙ্গে তৃতীয় শ্রেণির বিভিন্ন কারিগরি পদের জন্য আলাদা নিয়োগবিধি থাকায় অভিন্ন মানবণ্টন জটিলতা তৈরি করতে পারে।

সাবেক সচিব আনোয়ার ফারুকও একই মত প্রকাশ করে বলেন, এ সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। আগের বিধান বহাল রাখা জরুরি। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় সমান নম্বর থাকলে নিয়োগে নিরপেক্ষতা ধরে রাখা কঠিন হবে এবং দলীয় বিবেচনায় অযোগ্য ব্যক্তিদের প্রশাসনে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970