'দেশে প্রতি ১০০ শিক্ষিত তরুণের ৩৬ জনই বেকার'
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম
বাংলাদেশে প্রতি ১০০ জন উচ্চশিক্ষিত তরুণের মধ্যে প্রায় ৩৬ জনই বেকার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় তরুণদের বেকারত্ব নিয়ে করা গবেষণাটি সংস্থাটির ‘অর্থ ও উন্নয়ন’ সাময়িকীর সেপ্টেম্বর সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণায় ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। উচ্চমাধ্যমিক বা এর পরবর্তী স্তরের শিক্ষাকে উচ্চশিক্ষা হিসেবে বিবেচনা করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল। সংস্থাটির হিসাবে, বাংলাদেশে সামগ্রিক তরুণ বেকারত্বের হার প্রায় ১০ শতাংশ। তবে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের ক্ষেত্রে এই হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৬ শতাংশে।
দক্ষিণ এশিয়ার তথ্যভুক্ত তিন দেশের মধ্যে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের বেকারত্বের হার সবচেয়ে বেশি শ্রীলঙ্কায়। দেশটিতে এই হার প্রায় ৪৩ শতাংশ। এরপর ভারতে প্রায় ৪২ শতাংশ এবং বাংলাদেশে প্রায় ৩৬ শতাংশ।
অন্যদিকে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের বেকারত্বের হার তুলনামূলকভাবে কম। ইন্দোনেশিয়ায় এই হার প্রায় ১৮ শতাংশ, ভিয়েতনামে ১৬ শতাংশ, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে ১৩ শতাংশ এবং ফিলিপাইনে ১২ শতাংশ। সিঙ্গাপুরে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের বেকারত্বের হার প্রায় ৮ শতাংশ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে সামগ্রিক তরুণ বেকারত্বের হার এবং উচ্চশিক্ষিত তরুণদের বেকারত্বের হারের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল এই পরিস্থিতিকে উচ্চশিক্ষিত স্নাতকের আধিক্য হিসেবে উল্লেখ করেছে। অর্থাৎ শিক্ষিত তরুণের সংখ্যা বাড়লেও তাদের যোগ্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসংস্থানের সুযোগ সেই অনুপাতে তৈরি হচ্ছে না।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন বলেন, উচ্চশিক্ষিত তরুণ কর্মীরা নিজেদের যোগ্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চাকরি খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির দ্রুত ব্যবহার প্রাথমিক পর্যায়ের বিভিন্ন কারিগরি পদে কর্মসংস্থানের সুযোগ কমিয়ে দিচ্ছে। জুনিয়র প্রকৌশলী, অ্যানিমেটর ও প্রশাসনিক কর্মীদের মতো পদগুলোতে নতুন স্নাতকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকলেও প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের কারণে এসব পদে চাপ বাড়ছে।