বিএনপির সঙ্গে চাঁদাবাজির এক ধরনের ট্যাগিংয়ের চেষ্টা চলছে: তথ্য উপদেষ্টা
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই বিএনপির সঙ্গে চাঁদাবাজির এক ধরনের ট্যাগিংয়ের চেষ্টা চলছে। এটি রাজনৈতিক বয়ান তৈরির অংশ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
জাহেদ উর রহমান বলেন, বিএনপির সঙ্গে চাঁদাবাজির এক ধরনের ট্যাগিংয়ের চেষ্টা রয়েছে। তবে তিনি বলছেন না যে, বর্তমান সরকারের সময়ে, সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত কেউ কিংবা সরকারের দলের নাম ব্যবহার করে কেউ এ কাজ করছে।
তিনি বলেন, বিষয়টি মূলত একটি বয়ানের সঙ্গে সম্পর্কিত। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই এমন একটি চেষ্টা রয়েছে। এই রাজনৈতিক প্রচেষ্টা চলতেই পারে এবং যারা এমন রাজনীতি করতে চান, তারা তা করতেই পারেন।
বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কনটেন্ট নির্মাতা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, হামলার শিকার হওয়ায় সালমান মুক্তাদিরের প্রতি সরকারের সহানুভূতি রয়েছে। তবে ঘটনার পর চাঁদাবাজি এবং বিএনপির সংশ্লিষ্টতার যে অভিযোগ সামনে এসেছিল, পরবর্তী সময়ে সেই বক্তব্যের কিছু অংশ পরিবর্তন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সালমান মুক্তাদির ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তার প্রতিষ্ঠানে হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তবে কোনো জনপ্রিয় ও ব্যাপক অনুসারী থাকা ব্যক্তি কোনো অভিযোগ করলে তার সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব অনেক বেশি হয়।
জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, পরবর্তী সময়ে সালমান মুক্তাদির সরাসরি তার কাছে চাঁদা চাওয়ার বিষয়ে দেওয়া বক্তব্য সংশোধন করেছেন। ফলে প্রাথমিক বক্তব্যের ভিত্তিতে যেসব রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও প্রচার হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল আচরণ করা প্রয়োজন।
ব্রিফিংয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমিরসহ বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক নেতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া প্রতিক্রিয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন তথ্য উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, সালমান মুক্তাদিরের প্রাথমিক বক্তব্যের ভিত্তিতে জামায়াতে ইসলামীর আমির সরকার ও সরকারি দলকে দায়ী করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে নতুন তথ্য সামনে এলেও সেই বক্তব্য প্রত্যাহার বা সংশোধন করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
তথ্য উপদেষ্টার মতে, প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে কেউ প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেন। তবে পরে সেই তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ বলে প্রতীয়মান হলে নিজের অবস্থান সংশোধন করাও দায়িত্বশীল আচরণের অংশ।
জাতীয় নাগরিক পার্টির কয়েকজন নেতার বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে জাহেদ উর রহমান অভিযোগ করেন, ঘটনার পর বিএনপি, দলটির নেতৃত্ব এবং সরকারকে লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে নতুন তথ্য সামনে এলেও এসব বক্তব্যের অনেকগুলো সংশোধন করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার ক্ষমতায় থাকলে তার কর্মকাণ্ড নিয়ে যৌক্তিক সমালোচনার অনেক সুযোগ রয়েছে। এ জন্য অপতথ্যের প্রয়োজন নেই।
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাকে সরকার হালকাভাবে দেখছে না বলেও জানান তিনি। তার বক্তব্য, কোনো নাগরিকের প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর কিংবা তার ওপর হামলা হলে তা প্রতিরোধ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে সরকার বিব্রত ও দুঃখিত হবে।
হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের পাশাপাশি নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদেরও তদন্তের আওতায় আনার কথা জানান তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, তদন্তে ক্ষমতাসীন দলের কোনো ব্যক্তি, পুলিশ সদস্য কিংবা অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে। দলীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, সরাসরি ভাঙচুরে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করাই তদন্তের শেষ নয়। তদন্তে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির চাঁদাবাজবিরোধী কর্মসূচি প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, তার কাছে দলটির ওই কর্মসূচি ব্যঙ্গাত্মক বলে মনে হয়েছে। তবে তারা এ ধরনের কর্মসূচি করতেই পারেন। সহিংস কোনো কর্মকাণ্ডের পরিবর্তে এ ধরনের কর্মসূচিকে সরকার স্বাগত জানায়।
তিনি বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি যদি মনে করে এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে তারা জনগণের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে পারবে, তাহলে তারা নিজেদের জায়গা থেকে সেই চেষ্টা করতে পারে।