চার বছর পর বাংলাদেশিদের জন্য আবারও খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৭ পিএম
প্রায় চার বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশিদের জন্য আবারও খুলতে শুরু করেছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। যদিও এখনো দুই দেশের পক্ষ থেকে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার সুপারমার্কেট চেইন এনএসকে ট্রেড সিটির চাহিদার ভিত্তিতে ২৮ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের চাহিদাপত্র সত্যায়ন করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এর মধ্য দিয়েই বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
হাইকমিশন সূত্র জানায়, বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি গুডনেস সার্ভিসেস লিমিটেডের মাধ্যমে ওই ২৮ কর্মীর চাহিদাপত্র সত্যায়ন করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ে একাধিক বৈঠক, আলোচনা ও কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও এতদিন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি। পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ পুনরায় শুরুর বিষয়টি আলোচনায় আসে।
প্রধানমন্ত্রীর ওই সফরের পর বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ায় নিয়োগের সুযোগ নতুন করে তৈরি হয়। তবে এখন পর্যন্ত শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে বাংলাদেশ কিংবা মালয়েশিয়া কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।
এরই মধ্যে মালয়েশিয়া সরকার প্রায় এক মাস আগে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া ও বিভিন্ন ধাপ প্রকাশ করেছে। তবে বাংলাদেশ থেকে কোন প্রক্রিয়ায় কর্মীরা মালয়েশিয়ায় যাবেন, কোন কোন রিক্রুটিং এজেন্সি নিয়োগ কার্যক্রমে যুক্ত হবে এবং অভিবাসন ব্যয় কত হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
এদিকে শ্রমবাজার চালুর সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে কিছু রিক্রুটিং এজেন্সি, দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগী সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের চাকরির বিজ্ঞাপন, দ্রুত মালয়েশিয়া পাঠানোর প্রতিশ্রুতি এবং নিয়োগের আশ্বাস দিয়ে চাকরিপ্রত্যাশীদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে। এতে প্রতারণার আশঙ্কা বাড়ছে।
এর আগে মালয়েশিয়ায় যেতে সরকার নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। এবার নতুন করে শ্রমবাজার চালুর পরও একই ধরনের অনিয়মের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষা, অভিবাসন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতারণা প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি করা হবে বলে জানিয়েছে সরকার।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন করে চালু হতে যাওয়া শ্রমবাজারে কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ, নিরাপদ ও ব্যয় সাশ্রয়ী রাখা যায়, তার ওপর মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে। অতীতের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর পাশাপাশি চাকরিপ্রত্যাশীদের দালালচক্রের প্রতারণা থেকে সুরক্ষা দেওয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।