নিজের সন্তানের জন্য হলেও ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখুন: প্রধানমন্ত্রী
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৮ পিএম
ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সবার কথা বাদ দিয়ে অন্তত নিজের সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে হলেও একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তুলতে হবে।
সোমবার ১৯ অক্টোবর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান কার্যালয় নগর ভবন পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে পুরো নগরী পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ নিশ্চয়ই চান না তার সন্তান নোংরা, জীবাণুযুক্ত ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেড়ে উঠুক। সন্তান শুধু নিজের বাসার আশপাশে থাকে না, স্কুল, কলেজ, খেলার মাঠসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে। তাই শুধু নিজের এলাকা নয়, পুরো ঢাকা শহর পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করতে হবে।
তিনি বলেন, সন্তান সারা ঢাকা শহরে চলাফেরা করবে। তাই সবাই মিলে উদ্যোগ নিলে শহরকে পরিচ্ছন্ন করা সম্ভব। সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা যাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ঢাকার অন্যতম বড় সমস্যা আবর্জনা ও অপরিচ্ছন্নতা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সমস্যা এক দিন বা সাত দিনে সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সবাই আন্তরিকভাবে চেষ্টা করলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নগরীর পরিচ্ছন্নতা সমস্যার সমাধানে তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা রয়েছে। পরিবর্তন আনতে সময় লাগতে পারে, কিন্তু নিয়মিত চেষ্টা চালিয়ে গেলে ফল পাওয়া যাবে। এ জন্য নিজেদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও কাজ করার ইচ্ছা থাকতে হবে।
কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, তিনি বিভিন্ন স্থানে গেলে কোথায় কী সমস্যা রয়েছে, তা পর্যবেক্ষণ করেন। এরপর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেন। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারাও একইভাবে সমস্যা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে নগরীর পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।
বিদেশের পরিচ্ছন্ন শহরগুলোর উদাহরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাজ্যের লন্ডনের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ষাট ও সত্তরের দশকে লন্ডনের অনেক স্থানেও ময়লা-আবর্জনার সমস্যা ছিল। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা ও নাগরিক সচেতনতার মাধ্যমে সেখানকার পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেকেই বিদেশের পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর শহর দেখে দেশে ফিরে নিজেদের শহরের অবস্থা নিয়ে আফসোস করেন। তবে শুধু আফসোস করে বসে থাকলে চলবে না। শহরকে পরিচ্ছন্ন করতে প্রত্যেককে নিজের দায়িত্ব পালন করতে হবে।
ঢাকার পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতিতে কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তারেক রহমান। এ প্রসঙ্গে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে সাম্প্রতিক সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করা দক্ষিণ কোরিয়ার ওই প্রতিষ্ঠানের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা সম্প্রতি তার সঙ্গে দেখা করেন। ঢাকার পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা শহরের পরিচ্ছন্নতা আগের তুলনায় কিছুটা ভালো হয়েছে বলে জানান।
তারেক রহমান বলেন, ঢাকার পরিচ্ছন্নতায় কিছুটা উন্নতি হওয়াও ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রমাণ। সবাই মিলে চেষ্টা করলে পরিস্থিতির আরও উন্নতি করা সম্ভব।
নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোথাও সড়ক বিভাজক নতুন করে তৈরি করা হচ্ছে, আবার কোথাও বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। নগরীকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করতে এসব উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে।