তুরাগ নদীতে তাহসিফের মরদেহ, শরীরে আঘাতের চিহ্ন নিয়ে যা বলছে পুলিশ

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির মরদেহ রাজধানীর উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী সংলগ্ন তুরাগ নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহে আঘাতের কোনো চিহ্ন ছিল কি না এবং তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী, তা জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তুরাগ নদীর রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌপুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, টঙ্গী নৌপুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করেছে। তাদের মাধ্যমে জানা গেছে, নিহত ব্যক্তি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরি।

নৌপুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধারের পর অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে মরদেহটির সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। নিহতের বয়স আনুমানিক ২৮ বছর। তার পরনে ছিল সাদা পায়জামা ও কালো জামা। হাতে একটি ঘড়ি ছিল। পকেটে পাওয়া যায় একটি আইফোন। মুখে ছিল হালকা দাড়ি। ওই মুঠোফোনের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

তাহসিফ সৌরির বাসা রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে। তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সেখানে একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন। তার বাবার নাম কে এম এনায়েত হেলাল। মঙ্গলবার থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন বলে জানিয়েছে নৌপুলিশ।

মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে নৌপুলিশের ঢাকা অঞ্চলের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন জানান, জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ এ খবর পেয়ে বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তুরাগ নদীর রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

তাহসিফের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ফিরোজ উদ্দিন বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।

এর আগে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের দৃশ্য ধারণ এবং সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় বিমানবাহিনীর দুই কর্মকর্তা আলোচনায় আসেন। তাদের একজন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট রিফাত আশরাফী। জানা গেছে, তিনি বিমানবাহিনীর কুর্মিটোলা বিমানঘাঁটির কর্মকর্তাদের আবাসিক কক্ষের একটি জানালা থেকে দৃশ্যটি ধারণ করেছিলেন।

অন্যজন ছিলেন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরি। তিনি ভিডিওটি নিজের ফেসবুকের সময়রেখায় প্রকাশ করেছিলেন বলে জানা গেছে। ওই ঘটনায় দুজনকেই বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। রিফাত আশরাফী বিমানবাহিনীর প্রশাসন শাখার কর্মকর্তা ছিলেন বলেও জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের দৃশ্যটি একটি নির্দিষ্ট কোণ থেকে ধারণ করা হয়েছিল। ভিডিওটির সূত্র ধরে বিমানবাহিনীর আকাশ গোয়েন্দা শাখা তদন্ত শুরু করে।

তদন্তে ভিডিও ধারণের কোণ, অবস্থান এবং ক্যামেরা ঘোরানোর ধরন বিশ্লেষণ করে কোন কক্ষ থেকে এবং কে দৃশ্যটি ধারণ করেছিলেন, তা শনাক্ত করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে রিফাত আশরাফী তার অফিসকক্ষের জানালা থেকে দৃশ্যটি ধারণ করার কথা স্বীকার করেন। তাহসিফ সৌরিও ভিডিওটি প্রকাশ করার কথা জানিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970