কক্সবাজারের রিসোর্টে আগুনে শেষ এক পরিবার, পাশাপাশি চার কবরে বাবা-মা ও দুই মেয়ে

সারাদেশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২২ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের ইনানীর টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো একই পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ ১১ দিন পর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছেছে। যশোরের মনিরামপুর উপজেলার মোহনপুর গ্রামে বুধবার ভোরে মরদেহগুলো পৌঁছানোর পর নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। দুপুরে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি চারটি কবরে তাদের দাফন করা হয়।

নিহতরা হলেন মনিরামপুরের মতিয়ার রহমানের ছেলে নাহিদুর রহমান তুহিন, তার স্ত্রী আফসানা তানজি এবং তাদের দুই মেয়ে রুজায়না ইয়ানা ও সুনায়না ইয়ানা। নাহিদের বয়স ছিল ৪০ বছর, আফসানার ৩৫ বছর এবং দুই মেয়ের বয়স ছিল ৭ বছর।

পরিবারের সদস্যরা জানান, দুর্গাপূজার ছুটিতে গত ১৫ অক্টোবর ঢাকা থেকে কক্সবাজারে বেড়াতে যান নাহিদুর রহমান তুহিন ও তার পরিবারের সদস্যরা। পরদিন তারা ইনানীর টুপটুপ রিসোর্টে ওঠেন। ১৮ অক্টোবর দুপুরে তাদের রিসোর্ট ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এর আগেই ১৭ অক্টোবর ভোরে রিসোর্টটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে একই পরিবারের চার সদস্যসহ মোট ১০ জনের মৃত্যু হয়।

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও ডিএনএ পরীক্ষার কারণে মরদেহ শনাক্ত করতে সময় লাগে। গত সোমবার কক্সবাজার পুলিশ ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে। পরদিন দুপুরে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বুধবার ভোরে মরদেহগুলো গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

নিহত নাহিদুর রহমান তুহিন দুই ভাইয়ের মধ্যে একজন। চাকরির সুবাদে দুই ভাই বাড়ির বাইরে থাকতেন। মোহনপুরের বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা মতিয়ার রহমান একাই বসবাস করেন। পরিবারের চার সদস্যকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন তিনি।

বুধবার দুপুরে মোহনপুরের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজন ও এলাকাবাসীর ভিড় জমেছে। বাড়ির বারান্দায় একটি চেয়ারে বসে থাকা মতিয়ার রহমানকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন স্বজনরা। ছেলে, পুত্রবধূ ও দুই নাতনিকে হারিয়ে তিনি ভেঙে পড়েছেন।

জানাজা শেষে নাহিদের মায়ের কবরের পাশেই পাশাপাশি চারজনকে দাফন করা হয়। নাহিদ ঢাকার শ্যামলীতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরিবার নিয়ে তিনি রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় বসবাস করতেন।

এদিকে স্বজনদের অভিযোগ, অনুমতিহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ রিসোর্টের কারণে প্রাণ হারিয়েছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা। তারা অবিলম্বে অবৈধ রিসোর্ট বন্ধ এবং অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970