ওমরাহ শেষে প্রবাসীদের দুর্দশার কথা শুনলেন হাসনাত আবদুল্লাহ
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৯ পিএম
ওমরাহ পালন শেষে সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে কথা বলে তাদের নানা কষ্ট ও দুর্দশার কথা শুনেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।
এ সময় প্রবাসীরা বিদেশে এসে নানা ভোগান্তি, প্রতারণা, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা এবং দালালচক্রের হয়রানির কথা তুলে ধরেন। তাদের কয়েকজন জানান, বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে যেতে তাদের ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে। অনেকের কাছ থেকে ভিসা ও চাকরির আশ্বাস দিয়ে দালালরা বিপুল অর্থ নিলেও সৌদিতে পৌঁছানোর পর প্রতিশ্রুত কাজ দেওয়া হয়নি।
এক প্রবাসী জানান, বিদেশে যাওয়ার জন্য তিনি নিজের বাড়ি বিক্রি করে টাকা দিয়েছেন। কিন্তু সৌদিতে এসে প্রতিশ্রুত কাজ না পেয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। তিন মাসের বেতন পাওয়ার পর তাকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আরেক প্রবাসী বলেন, বাংলাদেশে থাকতেই তাদের জানানো হয়েছিল, সৌদিতে বিমানবন্দর থেকে নামার পর নির্দিষ্ট কাজে যোগ দিতে পারবেন এবং মাসে প্রায় ৬০ হাজার টাকা বেতন পাবেন। ছয় মাস পর বেতন আরও বাড়ানোর আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। তবে সৌদিতে যাওয়ার পর সেই প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল পাননি তিনি।
প্রবাসীদের অভিযোগ, দালালদের মাধ্যমে ভিসা নিয়ে সৌদি আরবে আসার পর অনেকেই প্রতিশ্রুত চাকরি কিংবা নিয়মিত বেতন কোনোটিই পাননি। এতে অনেকে থাকা ও খাওয়ার সংকটেও পড়েছেন।
তাদের ভাষ্য, সবচেয়ে বেশি কষ্টের বিষয় হলো নিজেদের দেশের মানুষের কাছেই প্রতারিত হওয়া। বিদেশে বিপদে পড়লেও চাকরি হারানো, ভয়ভীতি কিংবা হয়রানির আশঙ্কায় অনেকেই প্রতিবাদ করতে পারেন না।
এ সময় এক প্রবাসী নিজের পরিবারের দুর্দশার কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, পরিবারের সদস্যদের কেউ কেউ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সৌদি আরবে কাজ করলেও এখনো কাঙ্ক্ষিত নিরাপত্তা ও আর্থিক স্বস্তি নিশ্চিত হয়নি।
প্রবাসীরা হাসনাত আবদুল্লাহর কাছে তাদের সমস্যাগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান। বিদেশে কর্মী পাঠানোর আগে দালালচক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রবাসীদের জন্য প্রতিশ্রুত চাকরি, বেতন ও সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
প্রবাসীদের মতে, একজন শ্রমিক যখন বিদেশে যাওয়ার জন্য নিজের শেষ সম্বল বিক্রি করে বিপুল অর্থ ব্যয় করেন, তখন সেখানে গিয়ে কাজ না পাওয়া শুধু তার ব্যক্তিগত সংকট নয়, এর প্রভাব পড়ে পুরো পরিবারের ওপর।