শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আ.লীগের অবশিষ্টাংশেরও কবর রচিত হবে: সারজিস
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম
শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আওয়ামী লীগের রাজনীতির যে সামান্য অবশিষ্টাংশ রয়েছে, সেটুকুরও কবর রচিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব সারজিস আলম।
শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন, এমন গুঞ্জনকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না জানিয়ে সারজিস বলেন, সত্যিই যদি শেখ হাসিনা দেশে ফেরার চিন্তা করেন, তাহলে আওয়ামী লীগের রাজনীতির অবশিষ্টাংশেরও অবসান হবে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে পঞ্চগড় সদর উপজেলা পরিষদ হলরুমে দৈনিক পঞ্চগড় খবর নামে একটি স্থানীয় পত্রিকার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় সারজিস আলম বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে একটি পতিত স্বৈরাচারী সরকারের পতন হয়েছে। জাতীয় পার্টির ক্ষেত্রেও পতনের পর কিছুদিন নানা ধরনের রাজনৈতিক তৎপরতা দেখা গিয়েছিল। তবে সর্বশেষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তাদের রাজনৈতিক অবস্থানের অবসান হয়েছে। আওয়ামী লীগকে ঘিরে এখন যেসব আলোচনা চলছে, সেগুলোর অবসান হতেও হয়তো কিছুটা সময় লাগবে।
তিনি আরও বলেন, মানুষের মধ্যে এখনো তীব্র ক্ষোভ রয়েছে। কেউ পা হারিয়েছেন, কেউ হাত হারিয়েছেন, আবার কেউ পরিবারের সদস্যদের হারিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বললেই তাদের ক্ষোভের গভীরতা বোঝা যায়। ৫ আগস্ট গণভবনে শেখ হাসিনা অবস্থান করলে যে পরিস্থিতি তৈরি হতো, ডিসেম্বরে বাংলাদেশের কোথাও তার অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও একই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে সারজিস বলেন, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির নির্বাচনী জোট হয়েছিল। বর্তমানে সংসদে তারা বিরোধী দলীয় জোট হিসেবে একসঙ্গে কাজ করছেন। সেই জোট এখনো চলমান রয়েছে। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াত, এনসিপি ও অন্যান্য দল নিজ নিজ অবস্থান থেকে এককভাবে অংশ নেবে। এটি দলীয় সিদ্ধান্ত।
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এনসিপির দুই নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও আসিফ মাহমুদকে মেয়র প্রার্থী করা হয়েছে। কোনো ধরনের সমঝোতা বা ছাড় দেওয়ার জন্য তাদের প্রার্থী করা হয়নি। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তারা নির্বাচনী লড়াই চালিয়ে যাবেন।
বিএনপির সমালোচনা করে সারজিস আলম বলেন, গত আট মাসে বিএনপি প্রতিনিয়ত জনসমর্থন হারিয়েছে। দেশে হত্যাকাণ্ড ও ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি হয়েছে এবং সুশাসনের পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। এসব কারণে জনগণ বিকল্প হিসেবে এনসিপিকে বেছে নেবে বলে তারা বিশ্বাস করেন।
তিনি মনে করেন, এসব রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে সংসদে বিরোধী দলীয় জোটের কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়বে না।