জনগণকে বিভ্রান্ত করতেই বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচি: রিজভী
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৩ পিএম
জ্বালানি সংকটকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচির কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির নেতা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, সরকারের ইতিবাচক কর্মকাণ্ড নিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করতেই বিরোধীরা এ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, ঢাকার আয়োজনে পুনর্মিলনী ও বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
জ্বালানি সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে রিজভী বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও যুদ্ধের কারণে দেশে এ সংকট তৈরি হয়েছে। এর জন্য বিএনপি সরকার দায়ী নয়। বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নেওয়ায় পরিস্থিতি ধীরে ধীরে সহনীয় হয়ে আসছে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে আমেরিকা ও ইরানের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহকারী অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় সেখান থেকে তেল আমদানি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই সরকারকে কাজ করতে হচ্ছে।
রিজভী আরও বলেন, সরকার জ্বালানি আমদানির বিকল্প উৎস খুঁজছে এবং ইতিমধ্যে কয়েকটি উৎস থেকে জ্বালানি আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মিয়ানমার ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এসব দেশ থেকে জ্বালানি আসতেও শুরু করেছে। এর ফলে ঢাকায় গ্যাস সরবরাহ অনেকটা স্থিতিশীল হয়েছে এবং অন্যান্য জ্বালানির পরিস্থিতিও ধীরে ধীরে সহনীয় পর্যায়ে আসছে।
বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচির সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিএনপি সরকার ইতিবাচক রাজনীতি করছে। সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ জনগণের কাছে ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ অবস্থায় বিরোধী দল রাজনৈতিক শূন্যতা ও ঘাটতির মধ্যে পড়েছে। নিজেদের সেই অবস্থান আড়াল করতেই তারা লংমার্চ কর্মসূচি নিয়েছে। তবে এ কর্মসূচির কোনো যৌক্তিকতা নেই এবং জনগণের কাছেও এটি গ্রহণযোগ্য নয়।
সরকার ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, বিএনপি সরকার সেই পথে হাঁটছে কি না, তা সাংবাদিকেরাই ভালো জানেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করে বাংলাদেশকে আরও উন্নত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এ লক্ষ্যে দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী জাপান সফর করেছেন। ওই সফরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক লেনদেন ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে। এ বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি ও চুক্তি হয়েছে। এখন সেগুলো বাস্তবায়নের দিকে নজর দিতে হবে। এসব উদ্যোগ দেশের উন্নয়ন ও উৎপাদন বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।
এর আগে চীন সফরেও দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক লেনদেন বাড়ানোর বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রিজভীর অভিযোগ, সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপ ও গতিশীল নেতৃত্বের ভূমিকা আড়াল করতেই বিরোধীরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। এখন গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়েও তারা কথা বলতে পারছে না। সমাজে যারা বিভিন্ন ধরনের অস্থিরতা তৈরি করছে, তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ যথাযথ ভূমিকা পালন করছে। প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ জনকে কিশোর অপরাধসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির চেয়ে ভালো পরিস্থিতি আগে কখনো ছিল কি না, তা বিরোধীদের বলতে হবে। তার অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। বিরোধীরা বুঝতে পেরেছে, তাদের কর্মসূচি জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে না। এ কারণে জনপ্রিয় ও মন্ত্রণালয়ের কাজে সক্রিয় মন্ত্রীদের লক্ষ্য করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
রিজভী বলেন, অপপ্রচার চালিয়ে সরকারের গতিশীল ভূমিকা ও কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করা যাবে না।