বাঁহাতি ‘চায়নাম্যান’ বোলার থেকে যেভাবে শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের উত্থান

সারাদেশ ডেস্ক

প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ১১:০২ এএম

ছবি: সংগৃহীত

একসময় চট্টগ্রামের ক্রিকেটাঙ্গনে সম্ভাবনাময় বাঁহাতি স্পিনার হিসেবে পরিচিত ছিলেন মোবারক হোসেন ইমন। জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন নিয়ে ক্রিকেটে পথচলা শুরু করলেও পরবর্তীতে তিনি ‘ডেভিড ইমন’ নামে অপরাধজগতে পরিচিতি পান। হত্যা, অবৈধ অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ একাধিক মামলার আসামি হিসেবে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন তিনি।

বুধবার ভোরে যশোর সদর উপজেলার ঝুমঝুমপুর এলাকায় জেলা গোয়েন্দা শাখা ও কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে ডেভিড ইমনকে তার তিন সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন আল ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল, মোহাম্মদ শামীম এবং সাফায়েত হোসেন।

পুলিশ জানিয়েছে, গোঁফ কেটে ছদ্মবেশ ধারণ করে সহযোগীদের নিয়ে যশোর সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টা করছিলেন ডেভিড ইমন। দীর্ঘদিনের নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ এবং চট্টগ্রাম ও যশোর জেলা পুলিশের সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে তাকে আটক করা সম্ভব হয়।

যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঝুমঝুমপুর এলাকায় বিশেষ তল্লাশি চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ভারতে পালানোর পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেছেন। পরে তাদের চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাসুদ আলম বলেন, দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক নজরদারি ও অভিযানের ফলেই ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। একই সময়ে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী মোহাম্মদ রায়হান আলমকে ধরতে অভিযান চালানো হলেও তিনি পালিয়ে যান। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগরের একটি কৃষক পরিবারে জন্ম ইমনের। ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের প্রতি তার গভীর আগ্রহ ছিল। তিনি চট্টগ্রামের একটি ক্রিকেট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অনুশীলন করতেন এবং বাঁহাতি স্পিনার হিসেবে দ্রুত সবার নজর কাড়েন। প্রশিক্ষক ও সতীর্থদের মতে, বিভাগীয় পর্যায়ে খেলারও যথেষ্ট সম্ভাবনা ছিল তার।

প্রশিক্ষক আমিনুল হক জানান, ইমন ছিলেন শান্ত স্বভাবের ও পরিশ্রমী। তবে মহামারির পর তিনি অনুশীলনে আসা বন্ধ করে দেন। পরে গণমাধ্যমে ‘ডেভিড ইমন’ নামে পরিচয় প্রকাশের পর তারা জানতে পারেন, তাদের সাবেক সেই ক্রিকেটারই অপরাধজগতের আলোচিত ব্যক্তি।

স্থানীয়দের দাবি, পারিবারিক আর্থিক সংকট, বাবার দীর্ঘদিনের অসুস্থতা এবং ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়ার ব্যয় বহন করতে না পারায় ধীরে ধীরে খেলাধুলা থেকে দূরে সরে যান ইমন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের আগস্টের পর চট্টগ্রামের অপরাধজগতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন ডেভিড ইমন। বিদেশে পলাতক এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর চক্রের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। ওই চক্রের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালনায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন বলেও পুলিশের দাবি।

পুলিশের তথ্যমতে, চট্টগ্রাম নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, হামলা, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার এবং সংঘবদ্ধ অপরাধে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ত্রসহ ছবি প্রকাশের ঘটনাতেও তিনি আলোচনায় আসেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, হত্যা, হত্যাচেষ্টা, অবৈধ অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ অন্তত ১৫টি মামলার আসামি ডেভিড ইমন। সম্প্রতি একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাতেও তার নাম উঠে আসে। ওই ঘটনার তদন্তে গ্রেপ্তার হওয়া সহযোগীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তাকে ধরতে অভিযান আরও জোরদার করা হয়।

পুলিশের আশা, ডেভিড ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চট্টগ্রামের সক্রিয় অপরাধচক্র, অবৈধ অস্ত্রের উৎস, সহযোগীদের নেটওয়ার্ক এবং বিভিন্ন মামলার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: জাহিদুল ইসলাম

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970