পুত্রবধূকে ‘চাকরি না দেওয়ায়’ স্কুলে তালা ম্যানেজিং কমিটির সদস্যের
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৯ পিএম
রাজশাহীর পুঠিয়ায় পুত্রবধূকে চাকরি না দেওয়ার অভিযোগ তুলে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তালা দিয়েছেন ম্যানেজিং কমিটির এক দাতা সদস্য। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে মাঠে কলাগাছ রোপণ করেছেন তিনি। তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, ওই সদস্যের পুত্রবধূকে চাকরি দেওয়া হয়েছিল।
শনিবার ৩ অক্টোবর সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুলে এ ঘটনা ঘটে। দাতা সদস্য আজাদ আলী লোকজন নিয়ে বিদ্যালয়ের মাঠে কলাগাছ লাগান। পরে শিক্ষকদের কার্যালয়ে আগে থেকে লাগানো তালার ওপর আরও একটি তালা দেন। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক বাঁশ দিয়ে ঘিরে দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ নামে যাত্রা শুরু করে। প্রাক প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পাঠদানের পরিকল্পনা থাকলেও শুরুতে শুধু প্রাথমিক পর্যায়ে পাঠদানের সুযোগ ছিল। পরে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড থেকে প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তনের জন্য চিঠি দেওয়া হয়।
এরপর বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় প্রতিষ্ঠানের নাম ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুল রাখার সিদ্ধান্ত হয়। রেজুলেশনে উল্লেখ করা হয়েছে, দাতা সদস্য আজাদ আলী নিজেই এ নামের প্রস্তাব করেছিলেন।
২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটি নিম্নমাধ্যমিক পর্যায়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের অনুমতি পায়। তবে এখনো প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হয়নি। বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ের পাশাপাশি ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে। পর্যায়ক্রমে ওপরের শ্রেণিতে পাঠদান চালু হলে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের অনুমোদন নেওয়ার কথা রয়েছে।
এ বিষয়ে আজাদ আলী বলেন, তিনি প্রতিষ্ঠানের একজন দাতা সদস্য। প্রতিষ্ঠান করার সময় সেখানে টেকনিক্যাল কলেজ চালু করে তার ছেলে ও পুত্রবধূকে চাকরি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু টেকনিক্যাল কলেজ হয়নি এবং তার পুত্রবধূকেও চাকরি দেওয়া হয়নি। এ কারণে তিনি বিদ্যালয়ে তালা দিয়ে মাঠে কলাগাছ লাগিয়েছেন।
তবে প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা বলেন, আজাদ আলী নিঃশর্তভাবে প্রতিষ্ঠানকে জমি দান করেছিলেন। ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম চালুর জন্য তিনি সম্মতি দিয়েছিলেন। স্থাপনা নির্মাণের পর জমি প্রতিষ্ঠানের নামে রেজিস্ট্রি করার সময় তিনি ভোকেশনাল শাখায় ছেলের এবং কলেজ শাখায় পুত্রবধূর চাকরি দাবি করেন। কমিটি তার দাবিতে সম্মতি দিয়ে জমি রেজিস্ট্রি নেয়।
প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, কলেজ শাখা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে দেরি হওয়ায় আজাদ আলী তার পুত্রবধূকে প্রাথমিক শাখায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরিতে যোগদান করান। চাকরিরত অবস্থায় ২০২২ সালে তিনি মারা যান। এরপর আজাদ আলী ছেলেকে দ্বিতীয় বিয়ে করিয়ে নতুন পুত্রবধূকেও মাধ্যমিক শাখায় কেরানি পদে চাকরি দেওয়ার দাবি জানান। কমিটি তাতেও সম্মতি দেয় এবং এ বিষয়ে রেজুলেশন রয়েছে।
প্রধান শিক্ষকের ভাষ্য অনুযায়ী, এর প্রায় এক বছর পর ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর আজাদ আলী রাজশাহীর আদালতে মামলা করেন। মামলায় তিনি দাবি করেন, যে নামে প্রতিষ্ঠান করার জন্য তিনি জমি দিয়েছিলেন, সেই নামে প্রতিষ্ঠান করা হয়নি। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন। এর মধ্যেই তিনি বিদ্যালয়ে তালা লাগিয়ে মাঠে কলাগাছ রোপণ করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান বলেন, বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি চালু রাখার ব্যবস্থা করা হবে। পেছনে যে ঘটনাই থাকুক, শিক্ষার্থী থাকলে কোনো ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করতে পারবেন না।