সন্দ্বীপ চ্যানেলে ৩০০ যাত্রী নিয়ে ডুবোচরে আটকে ফেরি
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫০ এএম
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ চ্যানেলে তিন শতাধিক যাত্রী ও বিভিন্ন যানবাহন নিয়ে ডুবোচরে আটকে গেছে ফেরি ‘কপোতাক্ষ’। চার দিন বন্ধ থাকার পর বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণ পর নাব্যতা সংকটে পলিমাটিতে আটকে যায় ফেরিটি।
জানা গেছে, ফেরিটিতে অন্তত ৩০০ যাত্রী রয়েছেন। এছাড়া দুটি বাস, সাতটি ট্রাকসহ বেশ কয়েকটি ব্যক্তিগত যানবাহন রয়েছে। ফেরির ক্যানটিনে পর্যাপ্ত খাবার না থাকা এবং আটকে পড়ার সুযোগে সাধারণ শুকনো খাবারের অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।
অন্ধকার চ্যানেলে ফেরি আটকে পড়ায় চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন যাত্রীরা। তাদের একজন বলেন, অন্ধকারের মধ্যে সাগরে আটকে আছেন তারা। কখন চট্টগ্রামে পৌঁছাবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফেরি থেকে নেমে বাড়িতেও যাওয়ার সুযোগ নেই বলে জানান তারা।
ফেরি আটকে যাওয়ার ঘটনায় চ্যানেলে নিয়মিত ড্রেজিং না হওয়া এবং জোয়ার-ভাটার সময়সূচি যথাযথভাবে অনুসরণ না করার অভিযোগ উঠেছে। তবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক নয়ন শীল দাবি করেছেন, ফেরির মাস্টারের গাফিলতির কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে।
তিনি বলেন, উপকূলীয় এলাকায় ফেরি চলাচলের ক্ষেত্রে জোয়ার-ভাটার সময় অনুযায়ী যাত্রার সময় নির্ধারণ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে ফেরির মাস্টার দায়ী।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সন্দ্বীপ চ্যানেল থেকে মূল ভূখণ্ডের দিকে প্রায় ৩০০ মিটার ভেতরে পন্টুন স্থাপন করা হলেও নিয়মিত খননকাজ না হওয়ায় সেখানে নাব্যতা সংকট প্রকট হয়েছে। ফলে ভরা জোয়ার ছাড়া পন্টুনে ফেরি প্রবেশ বা বের হওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
ফেরির মাস্টার সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, রাতে জোয়ার এলে ফেরিটি ভেসে উঠবে। এরপর বাঁশবাড়িয়ার উদ্দেশে পুনরায় যাত্রা করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর আগে আবহাওয়া সতর্কতার কারণে টানা চার দিন এই রুটে নৌযান চলাচল বন্ধ ছিল। বুধবার সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে ফেরি ‘কপোতাক্ষ’ ঘাট ছাড়ার কিছু দূর যেতেই ডুবোচরে আটকে যায়।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৪ অক্টোবর একই স্থানে একইভাবে আটকে পড়েছিল ফেরিটি। সে সময় প্রায় ২৫ ঘণ্টা পর তিনটি টাগবোটের সহায়তায় ফেরিটিকে উদ্ধার করা হয়েছিল।