মুমূর্ষু মাকে পলিথিনে ঢেকে উত্তাল সাগর পাড়ি, ভিডিও ভাইরাল
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫০ এএম
বৈরী আবহাওয়া আর উত্তাল সাগরের ঢেউয়ের মধ্যে মুমূর্ষু ৮০ বছর বয়সী মাকে নিয়ে স্পিডবোটে করে সন্দ্বীপ থেকে চট্টগ্রামের পথে পাড়ি দিতে হয়েছে এক সন্তানকে। প্রবল বৃষ্টি থেকে মাকে রক্ষা করতে শরীরের ওপর দেওয়া হয় সাদা পলিথিন। মুখে অক্সিজেনের নল, হাতে জড়িয়ে রাখা অক্সিজেন সিলিন্ডার। এমন অসহায় যাত্রার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার সকালে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে মুমূর্ষু রোগীদের জরুরি চিকিৎসা ও নিরাপদে স্থানান্তরের ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন অনেকে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সন্দ্বীপ পৌরসভার তালতলী বাজার এলাকার বাসিন্দা রওশন আরা দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। শনিবার সন্ধ্যায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রোববার সকালে তাকে স্থানীয় সন্দ্বীপ মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকরা দ্রুত চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
রওশন আরার ছেলে জাহাঙ্গীর জানান, রোববার সকাল ১০টায় তারা সন্দ্বীপ থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হন। প্রায় চার ঘণ্টার যাত্রা শেষে দুপুর ২টায় তার মাকে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, মায়ের শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে এখনো তিনি শঙ্কামুক্ত নন।
জাহাঙ্গীর বলেন, জরুরি রোগী পারাপারের জন্য ঘাটে কোনো বিশেষ ব্যবস্থা না থাকায় বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই বাধ্য হয়ে অন্য যাত্রীদের সঙ্গে স্পিডবোটে উঠতে হয়েছে। জনপ্রতি ৩০০ টাকা ভাড়া দিয়ে সাগর পাড়ি দিতে হয় তাদের।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, উত্তাল সাগরের ঢেউ ও প্রবল বৃষ্টির মধ্যে স্পিডবোটে বসে আছেন রওশন আরা। বৃষ্টির পানি থেকে তাকে রক্ষা করতে শরীরের ওপর একটি সাদা পলিথিন দেওয়া হয়েছে। বাতাসে পলিথিন উড়ে যাওয়ায় ভিজে যাচ্ছেন তিনি। এ সময় তার মুখে অক্সিজেনের নল এবং পাশে অক্সিজেন সিলিন্ডার দেখা যায়।
জাহাঙ্গীরের অভিযোগ, জরুরি রোগীদের নিরাপদে পারাপারের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়েই মাকে নিয়ে সাগরে নামতে হয়েছে তাদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপের রোগীদের জরুরি পারাপারের জন্য দুটি সি-অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ থাকলেও সেগুলো বছরের পর বছর ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। ২০০৮ সালে আনা একটি সি-অ্যাম্বুলেন্স গুপ্তছড়া ঘাটের কেওড়া বাগানে এবং ২০১৫ সালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের দেওয়া আরেকটি অ্যাম্বুলেন্স হারামিয়া ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল প্রাঙ্গণে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, বরাদ্দের পর এসব সি-অ্যাম্বুলেন্স একদিনের জন্যও রোগীদের সেবায় ব্যবহার করা হয়নি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মানস বিশ্বাস জানান, দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকা অ্যাম্বুলেন্সগুলোর পরিবর্তে নতুন একটি সি-অ্যাম্বুলেন্সের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। তবে এখনো এ বিষয়ে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।