অটোরিকশাচালক সুমনই তাজমিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেন: পুলিশ

সারাদেশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩১ এএম

ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সুমন নামের এক অটোরিকশাচালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, তাজমিনকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন সুমন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া।

পুলিশ জানায়, গত ৭ অক্টোবর রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাজমিন কুমিল্লার রেসকোর্স এলাকায় যাওয়ার জন্য সুমনের চালিত সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করেন। তবে তাকে শহরের দিকে না নিয়ে পদুয়ার বাজার থেকে বিজরার দিকে চলে যান চালক। দীর্ঘ সময় বিভিন্ন স্থানে ঘোরানোর পর লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার একটি নির্জন সড়কে নিয়ে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন সুমন। এ সময় তাজমিনের সঙ্গে সুমনের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে অটোরিকশাটি ধানখেতে কাত হয়ে পড়ে যায়। তাজমিন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলেও দুর্বল হয়ে পড়েন। পরে তাকে কাবু করেন সুমন।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে তাজমিনকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন সুমন। ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান তিনি। পরে পাশের এলাকার একটি পুকুরে গোসল করেন। যাওয়ার সময় তাজমিনের ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে একটি আইফোন নিয়ে যান সুমন। ফোনটি একটি ধানখেতে লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামের দিকে চলে যান তিনি।

পুলিশ আরও জানায়, ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া অটোরিকশার নিবন্ধন নম্বরের সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করা হয়। তদন্তের একপর্যায়ে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল চট্টগ্রাম নগরীর একটি এলাকা থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করে।

সংবাদ সম্মেলনে পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন। তাকে আদালতে পাঠানো হবে। আদালতে তিনি জবানবন্দি দেবেন কি না, তা পরে জানা যাবে।

এ সময় লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক পবিত্র সরকার, উপপরিদর্শক অর্ণবসহ পুলিশের অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

যেভাবে উদ্ধার হয় তাজমিনের মরদেহ:

গত ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে জান্নাতুল তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার বয়স ছিল ১৪ বছর। তিনি যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে এবং কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি স্কুলে যাচ্ছিলেন না বলে জানিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম একটি ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে চাকরি করেন। পরিবারের সঙ্গে তিনি নগরীর রেসকোর্স এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

গত ৪ অক্টোবর সকালে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হন তাজমিন। এরপর ৭ অক্টোবর রাত ১২টা ১৯ মিনিটে তাকে কুমিল্লার হোটেল নূরজাহানের সামনে সর্বশেষ দেখা যায়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন রাত ২টা ৫৮ মিনিটে বাবার হোয়াটসঅ্যাপে নিজের অবস্থানের সরাসরি তথ্য পাঠিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানান তাজমিন। তবে ঘুমিয়ে থাকায় তখন বার্তাটি দেখতে পাননি তার বাবা। পরদিন সকালে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পরিচয় শনাক্ত করা হয়। মরদেহের পাশে পড়ে থাকা সিএনজিচালিত অটোরিকশাটিও জব্দ করা হয়।

এ ঘটনায় তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970