‘সবচেয়ে খারাপ বাংলাদেশের সাংবাদিকগুলো, এগুলোরে কুত্তার মতো পেটানো দরকার’
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২২ পিএম
সাংবাদিকদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন ইসলামী বক্তা ড. সাইয়্যেদ মুহাম্মদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী। ইশরাক হোসেনের মাদকবিরোধী অভিযান এবং অস্ত্র উঁচিয়ে ধরার ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের সংবাদ পরিবেশনের সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, ‘সবচেয়ে খারাপ বাংলাদেশের সাংবাদিকগুলো, এগুলোরে কুত্তার মতো পেটানো দরকার।’
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর হাফিজিয়া মাদ্রাসার বার্ষিক ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিলে প্রধান বক্তার বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
আব্বাসী বলেন, ইশরাক হোসেন মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন, যা সঠিক উদ্যোগ। তবে পিস্তল উঁচিয়ে ধরার পদ্ধতি ঠিক ছিল না, যদিও তার উদ্দেশ্য মহৎ ছিল বলে তিনি মনে করেন। তার অভিযোগ, সরকার এ ঘটনার দায় নিতে চায়নি।
তিনি আরও বলেন, একজন যুবক প্রতিমন্ত্রীর পদে থেকে নিজের বাহিনী নিয়ে মাদক সিন্ডিকেটের শৃঙ্খল ভাঙার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সাংবাদিকেরা অভিযানের ইতিবাচক দিক তুলে না ধরে পিস্তল হাতে দৌড়ানোর বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
সাংবাদিকদের একাংশকে ‘হলুদ সাংবাদিক’ আখ্যা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান আব্বাসী। তিনি অভিযোগ করেন, এসব সাংবাদিক বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার অর্থে পরিচালিত হন এবং তারা বাংলাদেশের উন্নতি চান না। এ ধরনের সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আব্বাসীর দাবি, সাংবাদিকেরা মাদকবিরোধী অভিযানের ইতিবাচক দিক তুলে ধরলে এ বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত ভিন্ন হতে পারত। দেশে মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সামাজিকভাবেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।
বক্তব্যের আরেক অংশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বিচার প্রসঙ্গে সতর্ক করেন আব্বাসী। তিনি বলেন, অপরাধীদের বিচার ও খুনিদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তবে বিচার করতে গিয়ে নিরীহ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।
আওয়ামী লীগের সমর্থক এখনো রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সমর্থকেরাও সমাজে আছেন। আওয়ামী লীগের কেউ নেই, এমন দাবি সঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আব্বাসী বলেন, অপরাধীদের শাস্তি হওয়া উচিত। তবে যারা নিরীহ, তাদের ক্ষমা করে দেওয়াই দেশের জন্য কল্যাণকর হতে পারে।
বক্তব্যের শেষাংশে রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এই ইসলামী বক্তা।