বাস ট্রাকের সংঘর্ষে বাবা মেয়ের মৃত্যু, হাসপাতালে মা ও ছেলে

সারাদেশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩১ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

স্কুল ছুটি থাকায় খালার বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার বায়না ধরেছিল শিশু তাসফিয়া ও লাবিব। সন্তানদের ইচ্ছা পূরণ করতে স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে রাজশাহীতে বড় বোনের বাসায় যাচ্ছিলেন রুবিনা আক্তার। কিন্তু পথেই ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন রুবিনার স্বামী শহিদুল ইসলাম ও আট বছর বয়সী মেয়ে তাসফিয়া। গুরুতর আহত হয়েছেন রুবিনা ও তার ১০ বছর বয়সী ছেলে লাবিব হাসান।

দুর্ঘটনায় তাসফিয়ার কোলে থাকা পরিবারের শখের বিড়ালটিও মারা গেছে। একটি দুর্ঘটনায় মুহূর্তেই তছনছ হয়ে গেছে পরিবারটির সব আনন্দ ও পরিকল্পনা।

মঙ্গলবার ভোরে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে নাটোর পাবনা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০ জন আহত হয়েছেন। তবে স্বামী ও মেয়ের মৃত্যুর খবর এখনো রুবিনাকে জানানো হয়নি।

নিহত শহিদুল ইসলামের ভাগ্নিজামাই মমিনুর রনি জানান, পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালি গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম ব্র্যাক ব্যাংকের মাগুরা শাখার ব্যবস্থাপক ছিলেন। তার স্ত্রী রুবিনা আক্তার পূবালী ব্যাংকের সুবিদখালি শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

সম্প্রতি তারা দুজন ওমরাহ পালন করে দেশে ফিরেছিলেন। দুর্ঘটনায় শহিদুল ইসলামের বয়স হয়েছিল ৪০ বছর। তাদের মেয়ে তাসফিয়া খাতুন তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ত। আর ছেলে লাবিব পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

রুবিনার দুলাভাই শহিদুর রহমান রাজশাহীর পাঠানপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং ইস্টার্ন ব্যাংকের কর্মকর্তা। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে তিনি স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে নাটোর সদর হাসপাতালে ছুটে যান। সেখানে আহত রুবিনা ও লাবিবের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।

শহিদুর রহমান জানান, পূজার ছুটি কাটাতে সন্তানদের নিয়ে পটুয়াখালী থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন রুবিনা। পরে মাগুরা থেকে একই বাসে ওঠেন তার স্বামী শহিদুল ইসলাম। ভোরে তাদের রাজশাহীতে পৌঁছানোর কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ে না পৌঁছানোয় খোঁজ নিতে গিয়ে দুর্ঘটনার খবর জানতে পারেন তারা।

আবেগাপ্লুত কণ্ঠে শহিদুর রহমান বলেন, তারা পূজার ছুটি আমাদের বাসায় কাটাতে চেয়েছিল। কিন্তু একটি দুর্ঘটনায় সব পরিকল্পনা ভেস্তে গেল। জীবনটাও এলোমেলো হয়ে গেল।

এদিকে নাটোর সদর হাসপাতালের শয্যায় ব্যথায় কাতরাচ্ছেন রুবিনা আক্তার। গুরুতর আহত অবস্থায়ও তিনি বারবার জানতে চাইছেন, তার স্বামী ও মেয়ে কোথায়। কিন্তু স্বামী ও মেয়ের মৃত্যুর খবর তাকে জানানোর সাহস পাচ্ছেন না স্বজনেরা। প্রিয়জনদের হারানোর খবর জানলে তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থার অবনতি হতে পারে, এমন আশঙ্কায় বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছে।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970