প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় নিহত ফিরোজার পরিবার পেল ৫ লাখ টাকা
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৪ পিএম
বগুড়ার শিবগঞ্জে জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারীকে বহনকারী সরকারি গাড়ির ধাক্কায় নিহত ফিরোজা বেগমের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের আত্মকর্মসংস্থান ও জীবিকা নির্বাহের সুবিধার্থে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ অর্থ দেওয়া হয়।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক সেতুর সামনে গোপীনাথপুর এলাকায় ফিরোজার পরিবারের সদস্যদের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
চেক হস্তান্তরের সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ফিরোজার পরিবারের হাতে ৫ লাখ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এ অনুদান দেওয়া হয়েছে।
চলতি বছরের ৪ সেপ্টেম্বর সকাল পৌনে ৯টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ইউনিয়নের গোপীনাথপুর এলাকায় মোকামতলা জয়পুরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত ফিরোজা বেগম ওই এলাকার মৃত নিজাম উদ্দিনের স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী সরকারি গাড়িতে করে ঢাকা থেকে তার নির্বাচনি এলাকা জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় যাচ্ছিলেন। এ সময় গাড়িতে তার স্ত্রী নাজমা আরা বেগমও ছিলেন। তাদের নিরাপত্তায় পুলিশের একটি গাড়িও সঙ্গে ছিল।
গোপীনাথপুর এলাকায় পৌঁছানোর পর ফিরোজা বেগম মহাসড়কের এক পাশ থেকে অন্য পাশে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির সামনে চলে আসেন। তাকে বাঁচাতে গিয়ে চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারান। পরে গাড়িটি সড়কের পাশের ধানক্ষেতে নেমে যায়। এতে ফিরোজা বেগম গুরুতর আহত হন। প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী ও তার স্ত্রীও আহত হন।
দুর্ঘটনার পর প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রী নাজমা আরা বেগম জানান, ওই নারীকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে গিয়ে চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারান। পরে গাড়িটি সড়কের পাশের ধানক্ষেতে নেমে যায়।
দুর্ঘটনায় আহত ফিরোজা বেগমকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল ওহাব, শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীনুজ্জামান শাহীন, প্রতিমন্ত্রীর ছেলে মীর শাকরুল ইসলাম সীমান্তসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা।