ছাত্রদল নেতার গুলিতে আহত যুবদলকর্মীর মৃত্যু
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২০ পিএম
চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় গুলিতে আহত যুবদলকর্মী আবু ইউসুফ জীবন মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৭ বছর বয়সী এই যুবদলকর্মীর মৃত্যু হয়।
নিহত জীবন নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার কুঞ্জছায়া আবাসিক এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। গত মঙ্গলবার রাতে ওই আবাসিক এলাকার ২ নম্বর সড়কে তার ওপর হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটে।
জীবনের পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, বায়েজিদ থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইকরাম বাবু ও তার সহযোগীরা এই হামলায় জড়িত। ইকরাম বাবু চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের প্রচার সম্পাদক জিল্লুর রহমান জুয়েলের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
মৃত্যুর আগে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেওয়া এক ভিডিও বক্তব্যে ইকরাম বাবু ও আরমান নামের দুজনের বিরুদ্ধে হামলা ও গুলি চালানোর অভিযোগ করেন জীবন। ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়েছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বে থাকা সহকারী উপপরিদর্শক আলাউদ্দিন তালুকদার জানান, মঙ্গলবার রাতে পায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় জীবনকে হাসপাতালে আনা হয়। পরে বুধবার তার অস্ত্রোপচার করা হয়। এ সময় তার ডান পা কেটে বাদ দিতে হয়েছিল।
বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, পায়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে জীবনের অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছিল। বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, এ ঘটনায় গত বুধবার জীবনের মা বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। মামলায় জিল্লুর রহমান জুয়েলকে প্রধান আসামি করে মোট ১৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। জীবনের মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, জীবন আগে মহানগর যুবদল নেতা জিল্লুর রহমান জুয়েলের অনুসারী ছিলেন। সম্প্রতি তিনি জুয়েলের পক্ষ ছেড়ে নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নুরুজ্জামান শিমুলের বলয়ে যোগ দেন। এরপর জুয়েলের অনুসারীদের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। এই রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরেই তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জিল্লুর রহমান জুয়েল। তার দাবি, আহত জীবন ও হামলাকারীরা স্থানীয় বাসিন্দা। তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত কোনো বিরোধের কারণে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
পুলিশ জানিয়েছে, রাজনৈতিক বিরোধের পাশাপাশি মেহেদী নামের এক যুবকের সঙ্গে জীবনের পূর্ববিরোধের বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।