ডাউনিং স্ট্রিটে অস্থিরতা, পদত্যাগের পথে কিয়ার স্টারমার!
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে দাবি করেছে দেশটির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল। রাজনৈতিক সংকট, মন্ত্রিসভায় বিদ্রোহ এবং ক্ষমতাসীন দলে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার মধ্যেই তিনি সরে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শনিবার (১৬ মে) প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে ডেইলি মেইল জানায়, স্টারমার তার ঘনিষ্ঠদের কাছে জানিয়েছেন যে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে উত্তরসূরি নির্বাচনের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সূচিও ঘোষণা করতে পারেন তিনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ডাউনিং স্ট্রিটের পরিস্থিতি যে আর নিয়ন্ত্রণে নেই, সেটি স্টারমার উপলব্ধি করতে পেরেছেন। মন্ত্রিসভার এক প্রভাবশালী সদস্য সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা মেনে নিয়েছেন স্টারমার এবং তিনি সম্মানজনকভাবে বিদায় নিতে চান।
তবে কবে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দেবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। স্টারমারের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন তাকে আপাতত অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে ‘মেকারফিল্ড’ আসনের উপনির্বাচনের প্রথম দফার জনমত জরিপের ফলাফল না আসা পর্যন্ত কোনো ঘোষণা না দিতে বলা হয়েছে তাকে।
অন্যদিকে, স্টারমারের সাবেক চিফ অব স্টাফ মরগান ম্যাকসুইনি তাকে ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তবে প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, উপনির্বাচনের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে রাজি নন স্টারমার। কারণ ফলাফল তার জন্য রাজনৈতিকভাবে বিব্রতকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম আবারও ওয়েস্টমিনস্টারে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আগামী ১৮ জুন অনুষ্ঠিতব্য উপনির্বাচন ঘিরে তার শিবির ব্যাপক প্রচারণা শুরু করেছে। তাদের ধারণা, নির্বাচনের আগে স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দিলে প্রচারণার কৌশলে প্রভাব পড়তে পারে।
গত এক সপ্তাহে ডাউনিং স্ট্রিটে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। সরকারের কয়েকজন জুনিয়র মন্ত্রীর একযোগে পদত্যাগের পর পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পারেন স্টারমার। এরপর তিনি সিনিয়র মন্ত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করলেও দলের ভেতর থেকে তার বিরুদ্ধে সমালোচনা ও চাপ আরও বাড়তে থাকে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের ঘনিষ্ঠদের একাধিক সমালোচনামূলক অবস্থান স্টারমারকে ক্ষুব্ধ করে তোলে। এমনকি ঘনিষ্ঠদের কাছে তিনি অভিযোগ করেন, সম্মানজনকভাবে বিদায় নেওয়ার চেষ্টা করলেও অনেকে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে স্টারমারের সাবেক কৌশলবিদ জশ সাইমন্সের মন্তব্যে। দ্য টাইমসে প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি লিখেছেন, স্টারমার এই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন না এবং নতুন নেতৃত্বের কাছে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করা উচিত।
এছাড়া সরকারের ভেতরেও বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। অনেক মন্ত্রী প্রকাশ্যে স্টারমারকে সমর্থন দিলেও গোপনে তার পদত্যাগের পক্ষে তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। চ্যান্সেলর র্যাচেল রিভস এক সাক্ষাৎকারে সরকারের ব্যর্থতা থেকে নিজেকে আলাদা করার ইঙ্গিত দেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। একই দিনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং পদত্যাগ করেন।
অন্যদিকে, জশ সাইমন্স মেকারফিল্ড আসন ছেড়ে দিলে সেখানে অ্যান্ডি বার্নহামের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথ খুলে যায়। যদিও ডাউনিং স্ট্রিট তা ঠেকানোর চেষ্টা করেছিল, শেষ পর্যন্ত দলের ডেপুটি লিডার লুসি পাওয়েলের হস্তক্ষেপে বার্নহামের মনোনয়ন চূড়ান্ত হয়।
সূত্র: ডেইলি মেইল