ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্প, মৃতের সংখ্যা লাখ ছাড়ানোর শঙ্কা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০৩:০৩ পিএম
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রাজধানী কারাকাসসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আঘাত হানা এই দুর্যোগে বহু আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ভবন ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। আতঙ্কিত মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পর ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরও শক্তিশালী আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই দফা কম্পনে দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রাথমিক মূল্যায়নে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। তাদের ধারণা, মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে পরিস্থিতির অবনতি হলে প্রাণহানি এক লাখের বেশি হওয়ার আশঙ্কাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কারণে পার্বত্য অঞ্চলে বড় ধরনের ভূমিধস এবং সমতল এলাকায় মাটির তারল্যজনিত বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ঘটনার পর উপকূলীয় অঞ্চল ও আশপাশের কয়েকটি দ্বীপ এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়।
দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রী দিওসদাদো কাবেয়ো জানান, রাজধানী কারাকাসের একাধিক বহুতল ভবন ধসে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি ও দৃশ্যে ভবনে বড় ফাটল এবং কয়েকটি স্থাপনার সম্পূর্ণ ধসে পড়ার চিত্র দেখা গেছে।
কারাকাস ছাড়াও ত্রুহিলিও, ইয়ারাকুই, কারাবোবো, আরাগুয়া, মিরান্দা ও লা গুয়াইরা প্রদেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্যে রয়েছে কারাকাসের লস পালোস গ্রান্দেস ও আলতামিরা অঞ্চল।
ভূমিকম্পের কম্পন প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতাতেও অনুভূত হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সেখানে অনেক মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে প্রথম ভূমিকম্পটি ইয়ারাকুই প্রদেশে উৎপন্ন হয়। এর কেন্দ্র ছিল ভূগর্ভের প্রায় ২১ দশমিক ৯ কিলোমিটার গভীরে। পরে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি ইউমারে শহরের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আঘাত হানে, যার গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে এত শক্তিশালী কম্পন তারা অনুভব করেননি। অনেকেই আতঙ্কে ভবন ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। জাতীয় ছুটির দিনে এই দুর্যোগ আঘাত হানায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো দুর্গতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
সূত্র: বিবিসি