অলাভজনক সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বন্ধ করবে ইন্দোনেশিয়া
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম
ইন্দোনেশিয়ায় চলতি বছরের শেষ নাগাদ ৭৫০টির বেশি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো। একই সঙ্গে অলাভজনক ও অদক্ষ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য বিশেষ আদালত গঠনের বিষয়টিও বিবেচনা করছে দেশটি।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) পার্লামেন্টে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রাবোও সুবিয়ান্তো বলেন, ইন্দোনেশিয়ায় এমন অনেক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেগুলো কার্যত কোনো উৎপাদনশীল কাজ করছে না। এসব প্রতিষ্ঠান নিয়মিত লোকসান করলেও কাগজে-কলমে লাভ দেখানো হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে সেই লাভের হিসাব কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়।
তিনি জানান, গত বছর রাষ্ট্রীয় সম্পদ পরিচালনার জন্য ইন্দোনেশিয়ার সার্বভৌম সম্পদ তহবিল দানান্তারা প্রতিষ্ঠার পর দেশে মোট ১ হাজার ৭৪টি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বের বিষয়টি জানা যায়।
প্রাবোও বলেন, তিনি ধারণা করেছিলেন দেশে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩০০ থেকে ৪০০টির মধ্যে হবে। কিন্তু বাস্তবে ১ হাজার ৭৪টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান অনেক সময় রাষ্ট্র ও জনগণের প্রতি যথাযথ দায়িত্ববোধ ছাড়াই নিজেদের মতো করে পরিচালিত হয়।
প্রেসিডেন্ট জানান, এখন পর্যন্ত ২৯০টি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে সর্বোচ্চ ৩০০টি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ৭৫০টির বেশি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে কেবল সেসব প্রতিষ্ঠান রাখা হবে, যেগুলো উৎপাদনশীল এবং জনগণের জন্য অতিরিক্ত মূল্য তৈরি করে।
এই উদ্যোগকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ, এমনকি সম্ভবত বিশ্বের সবচেয়ে বড় করপোরেট পুনর্গঠন বলেও উল্লেখ করেন প্রাবোও।
২.৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় সাশ্রয়
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের উদ্যোগের ফলে এরই মধ্যে প্রায় ৫০ ট্রিলিয়ন ইন্দোনেশীয় রুপিয়া বা ২.৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় সাশ্রয় হয়েছে বলে জানান প্রেসিডেন্ট।
এই সাশ্রয়ের মধ্যে রয়েছে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের বেতন, ভবন ও গাড়ি ভাড়া এবং ব্যবসায়িক ভ্রমণের ব্যয়। চলতি বছরের জন্য সরকারের লক্ষ্য হলো ৭০ ট্রিলিয়ন রুপিয়ার বেশি ব্যয় সাশ্রয় করা।
সূত্র: এএফপি