বিহারে হেলিকপ্টার থেকে ত্রাণ ফেলতে গিয়ে নিহত বৃদ্ধ, আহত নারী ও দুই শিশু
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০২ পিএম
ভারতের বিহারে বন্যাদুর্গত এলাকায় হেলিকপ্টার থেকে ফেলা ত্রাণের প্যাকেটের আঘাতে এক বৃদ্ধের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। একই এলাকায় আকাশপথে ত্রাণ বিতরণের সময় হেলিকপ্টারের প্রবল বাতাসে উড়ে আসা ধ্বংসাবশেষের আঘাতে এক নারী ও দুই শিশু আহত হয়েছেন। শুক্রবার, ২ অক্টোবর সারণ জেলার পরশুরামপুর গ্রামে এসব ঘটনা ঘটে।
বন্যার কারণে সারণ জেলার হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নদীর বাঁধ ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বৈভব শ্রীবাস্তব জানান, নিহত ব্যক্তির নাম অনিল কুমার সিং ওরফে আব্বু সিং। তার বয়স ৫৮ বছর। তিনি পরশুরামপুর গ্রামের বাসিন্দা।
জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জানান, নিহতের পরিবারকে শেষকৃত্যসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতার জন্য প্রাথমিক আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তবে ঠিক কী পরিস্থিতিতে তার মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গণ্ডক নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় বাঁধে আশ্রয় নেওয়া মানুষজন শুকনো খাবারের প্যাকেট সংগ্রহের জন্য ত্রাণ শিবিরের কাছে জড়ো হয়েছিলেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, দুপুরের খাবার শেষ করে অনিল কুমার বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় একটি হেলিকপ্টার নিচু দিয়ে উড়ে এসে ত্রাণের প্যাকেট ফেলতে শুরু করে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ৫ কেজি ওজনের একটি ত্রাণের প্যাকেট অনিল কুমারের মাথায় এবং আরেকটি তার বুকে পড়ে। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
তবে ঘটনার বিষয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পেয়েছে পুলিশ। এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, কেউ কেউ দাবি করেছেন ত্রাণের প্যাকেট সরাসরি অনিল কুমারের শরীরে আঘাত করেছে। আবার কারও ধারণা, কাছাকাছি ত্রাণের প্যাকেট পড়ার ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে তিনি হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন।
আমনৌর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিমলেশ কুমার জানান, নিহতের শরীরে বাইরে থেকে দেখা যায় এমন কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে মরদেহ সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়েছে।
এদিকে একই দিন ত্রাণ বিতরণের সময় হেলিকপ্টারের পাখার প্রবল বাতাসে উড়ে আসা ধ্বংসাবশেষের আঘাতে বিমলা দেবী বা রম্ভা দেবী নামের ৪৫ বছর বয়সী এক নারী আহত হয়েছেন। ত্রাণ শিবিরের বাসিন্দারা জানান, হেলিকপ্টারটি নিচ দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় তারা ছাদে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
এ ঘটনায় ওই নারীর হাড় ভেঙে গেছে। তার সঙ্গে থাকা দুই শিশুও সামান্য আহত হয়েছে। পরে আহতদের স্থানীয় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
গণ্ডক নদীর বাঁধ ভেঙে সারণ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় সেখানে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জেলার ছয়টি ব্লকের ৩৩টি পঞ্চায়েতের প্রায় ১৭০টি গ্রাম বন্যাকবলিত হয়েছে।
বন্যায় প্রায় ৩ লাখ ৩২ হাজার মানুষ এবং ৭৫ হাজারের বেশি পরিবার দুর্ভোগে পড়েছে। এখনো হাজার হাজার মানুষ বাঁধ ও উঁচু এলাকায় আশ্রয় নিয়ে আছেন।
জেলা প্রশাসনের অনুরোধ এবং মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে ভারতীয় বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারের মাধ্যমে আকাশপথে ত্রাণ বিতরণ জোরদার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার সময় পর্যন্ত তিন হাজারেরও বেশি ত্রাণের প্যাকেট ফেলা হয়েছিল। পাশাপাশি বন্যাদুর্গত এলাকায় জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী এবং রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর একাধিক দল উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস