সোমালিয়ায় ইসরায়েলি উপস্থিতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না: প্রেসিডেন্ট হাসান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম
সোমালিয়ায় ইসরায়েলের যেকোনো ধরনের উপস্থিতি কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহামুদ। তিনি বলেছেন, কোনো অবস্থাতেই সোমালিয়ার ভূখণ্ডে ইসরায়েলি উপস্থিতি মেনে নেওয়া হবে না। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে সোমালিয়াকে জড়িয়ে ফেলার যেকোনো প্রচেষ্টাও প্রতিহত করা হবে।
সম্প্রতি আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট।
হাসান শেখ মোহামুদ অভিযোগ করেন, ইসরায়েল বারবার্বায় একটি নৌঘাঁটি স্থাপন এবং বিমানবন্দর ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। এর মূল উদ্দেশ্য উপসাগরীয় দেশগুলো ও ইরানের কাছাকাছি পৌঁছানো।
বারবার্বা সোমালিল্যান্ডের এডেন উপসাগর উপকূলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল মান্দেব প্রণালীর কাছাকাছি অবস্থিত এই শহরটির অপর পাশে রয়েছে ইয়েমেন। এর আগে ইরানপন্থি হুথিরা ওই অঞ্চলে ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলে অবরোধ আরোপ করেছিল।
সোমালিল্যান্ড সোমালিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি স্বঘোষিত প্রজাতন্ত্র। ১৯৯১ সালে সোমালিয়া থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে অঞ্চলটি নিজস্বভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তবে মোগাদিশু এখনো এলাকাটিকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে। গত বছর ইসরায়েল অঞ্চলটিকে স্বীকৃতি দেয়।
সোমালিয়ার প্রেসিডেন্টের মতে, ইসরায়েলের এসব পরিকল্পনা বৃহত্তর ইসরায়েল প্রকল্পের অংশ। এই ধারণার আওতায় বর্তমান সীমানার বাইরে ইসরায়েলের ভূখণ্ডগত নিয়ন্ত্রণ সম্প্রসারণের বিভিন্ন প্রস্তাব রয়েছে। কিছু ব্যাখ্যায় নীল নদ থেকে ইউফ্রেটিস নদী পর্যন্ত বিস্তৃত ভূখণ্ডের কথা বলা হয়।
যদিও ইসরায়েল বৃহত্তর ইসরায়েল ধারণাকে আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে গ্রহণ করেনি, তবে ২০২৫ সালের আগস্টে এক সাক্ষাৎকারে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই দর্শনের সঙ্গে নিজের সংযোগের কথা বলেছিলেন। তার ওই বক্তব্যের পর বিভিন্ন আরব সরকার তীব্র নিন্দা জানায়।
ইসরায়েলকে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী শক্তি হিসেবে বর্ণনা করে হাসান শেখ মোহামুদ বলেন, দেশটি আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলে না। গত ডিসেম্বরে সোমালিল্যান্ডকে ইসরায়েলের স্বীকৃতি দেওয়ারও সমালোচনা করেন তিনি।
সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ইসরায়েল ছাড়া অন্য কোনো দেশ সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেয়নি। এমনকি ওই অঞ্চলের বাসিন্দারাও ইসরায়েলি উপস্থিতির বিরোধিতা করছেন।
সাক্ষাৎকারে সোমালিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন হাসান শেখ মোহামুদ। তিনি জানান, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো সোমালিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী অংশীদার। তার দাবি, দেশটির প্রধান শহরগুলোতে আল শাবাবের উপস্থিতি নেই এবং সোমালিয়ার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সক্ষমতাও গোষ্ঠীটির নেই।
আল শাবাব সোমালিয়ার একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী, যা দুই হাজার দশকের মাঝামাঝি সময়ে আত্মপ্রকাশ করে। ২০১২ সালে আল কায়েদার প্রতি আনুগত্য প্রকাশের পর থেকে গোষ্ঠীটি সোমালিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র তৎপরতা চালিয়ে আসছে। দেশটির দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলের কিছু এলাকায় তাদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। মোগাদিশু ও প্রতিবেশী কেনিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে প্রাণঘাতী হামলার সঙ্গেও গোষ্ঠীটি জড়িত।
এদিকে প্রতিবেশী ইথিওপিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক ভালো রয়েছে। অর্থনৈতিক স্বার্থে সোমালিয়ার বন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে ইথিওপিয়াকে সমুদ্রপথে প্রবেশাধিকার দিতে যৌথ চুক্তির বিষয়ে মোগাদিশুর আপত্তি নেই।
১৯৯৩ সালে ইরিত্রিয়া স্বাধীন হওয়ার পর থেকে ইথিওপিয়া স্থলবেষ্টিত দেশ হিসেবে রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য দেশটি মূলত জিবুতির বন্দরগুলোর ওপর নির্ভরশীল।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ইথিওপিয়া সোমালিল্যান্ডের সঙ্গে সমুদ্রপথে প্রবেশাধিকার নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। ওই চুক্তিকে নিজেদের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানায় সোমালিয়া। পরবর্তী সময়ে দুই দেশ উত্তেজনা প্রশমনে সম্মত হয়।