নেপালে বন্যার ধ্বংসস্তূপে এক বাড়ি থেকেই ২৪ মরদেহ উদ্ধার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২১ এএম
নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর উদ্ধার অভিযান যত এগোচ্ছে, ততই বেরিয়ে আসছে প্রাণহানির ভয়াবহ চিত্র। নেপালের বিদুর এলাকায় একটি বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে একসঙ্গে ২৪টি মরদেহ উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকারীরা। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মরদেহ চাপা পড়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নেপালের পুলিশ সুপার বিপিন রেগমি জানিয়েছেন, বন্যাকবলিত বিদুর এলাকার ওই বাড়ি থেকে ২৪টি মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে ধ্বংসস্তূপ পুরোপুরি সরানো সম্ভব না হওয়ায় সেখানে আরও মরদেহ থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
মঙ্গলবার (01 সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ওই এলাকায় নতুন করে উদ্ধার অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বেত্রাবতী পৌরসভার কর্মকর্তা মঙ্গল তামাং জানান, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে একটি শিশুর এবং বাকিগুলো প্রাপ্তবয়স্কদের। এরই মধ্যে ৬টি মরদেহ হেলিকপ্টারে করে রাজধানী কাঠমান্ডুতে পাঠানো হয়েছে। বাকি মরদেহগুলো আপাতত ঘটনাস্থলে রাখা হয়েছে। পরে সেগুলোও রাজধানীতে নেওয়া হবে।
উদ্ধার অভিযান আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মঙ্গল তামাং বলেন, ওই বাড়ির পাশাপাশি আশপাশের এলাকাতেও তল্লাশি চালানো হবে। এতে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান পাওয়ার আশা করছেন উদ্ধারকারীরা।
এদিকে নেপাল ও চীনে বন্যায় প্রাণহানি ইতোমধ্যে 950 ছাড়িয়েছে। নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের হিসাবে, দেশটিতে মৃতের সংখ্যা অন্তত 939। অন্যদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে অন্তত 16 জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রাণহানির পাশাপাশি নিখোঁজ মানুষের সংখ্যাও উদ্বেগজনক। নেপালে প্রায় 3,925 জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। চীনে নিখোঁজের সংখ্যা অন্তত 546।
বন্যার ভয়াবহতা তুলে ধরতে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে ঘটনাস্থলে থাকা সিএনএনের সাংবাদিক অ্যান্ডারসন কুপার পানির প্রবল স্রোতকে ‘তরল সিমেন্টের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন। তীব্র স্রোত, কাদামাটি ও ধ্বংসস্তূপের কারণে উদ্ধার অভিযানও কঠিন হয়ে পড়েছে।
মরদেহ উদ্ধারের সংখ্যা বাড়তে থাকায় এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ নিখোঁজ হাজারো মানুষকে দ্রুত খুঁজে বের করা। উদ্ধার অভিযান আরও এগিয়ে গেলে ভয়াবহ এই দুর্যোগে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।