জ্ঞান ফিরে পেয়েই যে প্রশ্ন করেন মৃত্যুদণ্ড ব্যর্থ হওয়া ক্রিস্টা পাইক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০২ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে দুবার প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা সম্ভব হয়নি সাজাপ্রাপ্ত আসামি ক্রিস্টা পাইকের। গত ৩০ সেপ্টেম্বর তাকে পেন্টোবারবিটাল নামের প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। তবে ওই প্রক্রিয়ার পরও বেঁচে যান তিনি।
হাসপাতালে জ্ঞান ফেরার পর ক্রিস্টা পাইকের প্রথম প্রশ্ন ছিল, ‘আমি কোথায়?’ এরপর তিনি জানতে চান, ‘আপনি কে?’
পাইকের আইনজীবী র্যান্ডি স্পাইভি জানান, জ্ঞান ফেরার পর ক্রিস্টা রাগান্বিত ও বিভ্রান্ত অবস্থায় ছিলেন। তার দুই হাত ফুলে গেছে। একটি হাতে রক্ত জমাট বেঁধেছে। পাশাপাশি তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং খাবার গিলতেও পারছেন না।
১৯৯৫ সালে তৎকালীন প্রেমিক টাডারিল শিপের সঙ্গে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে ক্রিস্টা পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ওই সময় শিপের বয়স ছিল ১৭ বছর। বয়স কম হওয়ায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি। তবে তিনি এখনো কারাগারে রয়েছেন।
ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর কয়েকদিন ক্রিস্টা পাইককে মস্তিষ্কের দিক থেকে মৃত বলে ধারণা করা হয়েছিল। এমনকি তাকে কৃত্রিমভাবে জীবনধারণ করিয়ে রাখা ব্যবস্থা থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিও চলছিল। তবে মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, হঠাৎ তিনি কথা বলতে শুরু করেন।
এরপর বুধবার, ৭ অক্টোবর, জরুরি শুনানিতে আদালত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ধরনের প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশ দেন। এসব প্রমাণের মধ্যে রয়েছে ইনজেকশনের নল, সিরিঞ্জ, প্যাকেট, নির্দেশনাপত্র ও লেবেল। পাশাপাশি ক্রিস্টা পাইকের মানসিক অবস্থা সম্পর্কিত নথিও চাওয়া হয়েছে।
এদিকে টেনেসির গভর্নর বিল লি চলতি বছরের বাকি সময়ের জন্য সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন। একই সঙ্গে ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কারণ অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। অঙ্গরাজ্যের কারা বিভাগের প্রধানও পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।
ক্রিস্টা পাইকের আইনজীবীদের অভিযোগ, হাসপাতালে তার সঙ্গে যোগাযোগে বাধা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকদের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও তাকে বিছানার সঙ্গে শিকল দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।