ককরোচ প্রধান অভিজিৎকে মুক্তির নির্দেশ আদালতের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৮ পিএম
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে নির্বাচনি অনিয়মের অভিযোগে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে আটকের এক দিন পর মুক্তি পেয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। শনিবার দিল্লির একটি আদালত তার মুক্তির নির্দেশ দেন। তবে মুক্তির জন্য তাকে ৫০ হাজার রুপির বন্ড জমা দিতে হয়েছে এবং শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করবেন না বলে অঙ্গীকার করতে হয়েছে।
শুক্রবার দিল্লির কনট প্লেস এলাকায় ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ বা জাতীয় পতাকা ওড়াও কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন অভিজিৎ। নির্বাচনি জালিয়াতির অভিযোগে চলমান প্রতিবাদের অংশ হিসেবে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আগেই তাকে আটক করে পুলিশ।
অভিজিতের পাশাপাশি অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নেহা বোরাকেও শুক্রবার আটক করা হয়েছিল। শনিবার ভোরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে অভিজিৎকে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়।
পুলিশের দাবি, শুক্রবার সন্ধ্যায় কনট প্লেস এলাকায় জাতীয় পতাকা হাতে মিছিল করার পরিকল্পনা করেছিলেন বিক্ষোভকারীরা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে তাদের আগাম আটক করা হয়। তবে পুলিশের বাধা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীসহ কয়েকটি ছোট মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
দিল্লি পুলিশ আইনের আওতায় আটকের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর নেহা বোরাকে মুক্তি দেওয়া হয়। অন্যদিকে, শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অভিযোগে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১২৬ ও ১৭০ ধারায় অভিজিতের বিরুদ্ধে নতুন মামলা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে গত ১০ অক্টোবর দিল্লি বিমানবন্দরে একটি উড়োজাহাজের ভেতর থেকে অভিজিৎকে আটক করা হয়েছিল। সে সময়ও শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে পৃথক মামলা হয়। ওই মামলায় এক বছরের জন্য শান্তি বিঘ্নিত করবেন না বলে অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করতে হয়েছিল তাকে।
মুক্তি পাওয়ার পর দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের সমালোচনা করেন নেহা বোরা। তিনি আটকের ঘটনাগুলোকে অবৈধ বলে অভিহিত করেন। একই সঙ্গে ভোটার তালিকার বিতর্কিত বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি জানান। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং তাকে কারাগারে পাঠানোরও দাবি জানান তিনি।
দিল্লি পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রায় ১৫০ জনকে আটক করা হয়। এ সময় কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্ক ঘিরে রাখে নিরাপত্তা বাহিনী। সেখানে দ্রুত অভিযান পরিচালনাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যও দায়িত্ব পালন করেন।
সূত্র, এনডিটিভি