দেশের শত্রুদের পরাজিত করতে হবে: নরেন্দ্র মোদি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৬ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের সম্মান, মর্যাদা, সামাজিক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছেন, দেশের সম্মান ক্ষুণ্ন করে, সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করে এবং সংস্কৃতির প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, এমন শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে তাদের পরাজিত করতে হবে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দিল্লির আইপি এক্সটেনশনের ডিডিএ উৎসব ময়দানে বিজয়া দশমী বা দশেরার অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় রাবণের কুশপুত্তলিকা দহনের ঐতিহ্যবাহী আয়োজনে অংশ নেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। অশুভ শক্তির ওপর শুভ শক্তির বিজয়ের প্রতীক হিসেবে উদযাপিত হয় এই উৎসব।

বক্তব্যে নরেন্দ্র মোদি বলেন, যেসব শক্তি দেশের সম্মান ক্ষুণ্ন করে, সমাজকে বিভক্ত করে এবং ভারতীয় সংস্কৃতিকে ঘৃণা করে, তারাই দেশের শত্রু। বিজয়া দশমীর পবিত্র দিনে এসব শক্তিকে চিহ্নিত করে পরাজিত করার সংকল্প নিতে হবে।

দেশের স্বার্থে রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন মোদি। তিনি বলেন, প্রাচীন ঋষিরা শিখিয়েছেন, শত্রুদের মোকাবিলায় সব রাজনৈতিক দল ও প্রতিষ্ঠানকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

বক্তব্যের শুরুতে শ্রীরাম, মা জানকী ও বজরংবলীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি বিজয়া দশমী উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানান তিনি।

মোদি বলেন, ভারতের প্রতিটি প্রান্তে এখন রামের আদর্শ ও ঐতিহ্যের প্রতিফলন দেখা যায়। দেশজুড়ে রামলীলার আয়োজন, রামের আদর্শকে ধারণ করার ঐতিহ্য, অত্যাচার ও সন্ত্রাসের অবসানের প্রত্যাশা এবং মিথ্যার ওপর সত্যের চিরন্তন বিজয়ের বিশ্বাস ভারতের প্রাণশক্তি। এসব কেবল উৎসবের অংশ নয়, বরং ভারতের জীবনশক্তির প্রতীক।

দেশ পরিচালনায় রামের আদর্শের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরে মোদি বলেন, রামরাজ্য এখনো ন্যায়সংগত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থার আদর্শ হিসেবে বিবেচিত হয়। এমন ব্যবস্থায় কারও প্রতি বৈষম্য করা হয় না, সবাই ন্যায়বিচার পায় এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হয়।

তিনি বলেন, শাসনব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের কল্যাণ। দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষের সেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে নাগরিকদের কল্যাণে কাজ করতে হবে।

আত্মনির্ভরতা, দৃঢ় সংকল্প ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার গুরুত্ব বোঝাতে রামের লঙ্কা যাত্রার উদাহরণ তুলে ধরেন মোদি। তিনি বলেন, নানা বাধা ও সংকটের মুখেও লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা বন্ধ করা যাবে না। নিজেদের সক্ষমতা ও সম্পদের ওপর আস্থা রেখে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।

মোদি বলেন, সংকট যত বড় বা চ্যালেঞ্জ যত কঠিনই হোক, অন্যের ওপর নির্ভর করে বসে থাকলে চলবে না। নিজেদের শক্তিকে চিনতে হবে, সম্পদের ওপর আস্থা রাখতে হবে এবং সংকল্পকে শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে।

রামের আদর্শের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি আরও বলেন, পথের বাধা কখনো লক্ষ্য অর্জনের যাত্রা থামিয়ে দিতে পারে না। সামনে সমুদ্র এবং দূরে লঙ্কা থাকা সত্ত্বেও রামের সংকল্প অটুট ছিল। তিনি সম্মিলিত জনশক্তিকে জাগিয়ে তুলে মানুষের অংশগ্রহণকে কাজে লাগিয়েছিলেন এবং কঠিন লক্ষ্যকে বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন। মোদির ভাষায়, এটিই সাফল্যের মূল মন্ত্র।

বক্তব্যের শেষ দিকে বিজয়া দশমীর তাৎপর্য তুলে ধরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই উৎসব মানুষকে বিশ্বাস করার সাহস জোগায় যে চ্যালেঞ্জ যত কঠিনই হোক, সত্য ও মানবতার পক্ষে দাঁড়ালে শেষ পর্যন্ত জয় আসবেই।

সূত্র: এনডিটিভি

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970