মমতার যা বয়স হয়েছে, তাতে তার এখন বিশ্রাম নেওয়া প্রয়োজন: শুভেন্দু
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানীপুর আসনে আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দিতেই চাননি বলে জানিয়েছেন রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এ কারণেই তিনি নন্দীগ্রাম আসন ছেড়ে ভবানীপুর আসনটি নিজের কাছে রেখেছেন বলে জানান। একই সঙ্গে মমতার বয়স নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, এই বয়সে তার বিশ্রাম নেওয়া প্রয়োজন।
বুধবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় দুই নবনির্বাচিত বিধায়কের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন শুভেন্দু। এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোলা নথি ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগ নিয়েও কথা বলেন তিনি। এ ঘটনায় এফআইআর করা হলে রাজ্যের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন বিধায়ক হিসেবে শপথ নেন নন্দীগ্রামের ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী হাসিরানি রথ এবং রেজিনগরের শাখারভ সরকার। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে নবনির্বাচিত দুই বিধায়ককে অভিনন্দন জানান ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর, উভয় আসনেই জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুর আসনে তিনি পরাজিত করেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। পরে ভবানীপুর আসনটি রেখে নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেন তিনি।
নিজের এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মমতার নাম সরাসরি উল্লেখ না করে শুভেন্দু বলেন, ভবানীপুর আসন ছেড়ে দিলে তার কাছে দুবার পরাজিত হওয়া ওই নেত্রী আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পেতেন। সেই সুযোগ না দেওয়াই ভালো বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মমতার বয়স প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, প্রায় ৭৫ বছর বয়সে তার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করাই ভালো। এ সময় তার বিশ্রাম নেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী।
নথি ছিনতাইয়ের অভিযোগে তদন্তের আশ্বাস
এদিকে সোমবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, তাদের পক্ষের হলফনামা ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পাঠানোর সময় সড়কপথে একটি ট্রাকে হামলা চালানো হয়। তার দাবি, ভোর সাড়ে ৩টার দিকে দুর্বৃত্তরা নথি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
এ ঘটনার পেছনে মমতাপন্থী কালীঘাট শিবিরের লোকজন জড়িত বলে অভিযোগ করেন ঋতব্রত। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো কোনো তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
এ প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, রাজনৈতিক বিরোধীরা নিজেদের মধ্যে লড়াই করলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে দেওয়া যাবে না। ঋতব্রতের অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর করা হলে রাজ্যের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
অধিবেশন শেষে ঋতব্রত জানান, গণতান্ত্রিক তৃণমূলের পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানো হবে।
সাবেক সহকারীর হত্যাকাণ্ড নিয়েও বক্তব্য
বিধানসভার অনুষ্ঠানে নিজের সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথের হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়েও কথা বলেন শুভেন্দু অধিকারী। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর চন্দ্রনাথ খুন হন। পরবর্তী সময়ে নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে তার মা হাসিরানি রথকে প্রার্থী করে ভারতীয় জনতা পার্টি। নির্বাচনে তাকে জয়ী করায় এলাকার ভোটারদের ধন্যবাদ জানান শুভেন্দু।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, চন্দ্রনাথকে হত্যার জন্য দুই কোটি রুপি দেওয়া হয়েছিল। এ মামলায় ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে বলেও জানান তিনি।
শুভেন্দুর ভাষ্য, হামলাকারী ও ভাড়াটে খুনিদের গ্রেপ্তার করা হলেও হত্যাকাণ্ডের জন্য অর্থের জোগানদাতার পরিচয় এখনো সামনে আসেনি। অর্থের উৎস নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি কালীঘাট, ক্যামাক স্ট্রিট ও ডায়মন্ড হারবারের নাম উল্লেখ করেন। তার বক্তব্যে এসব স্থানের প্রসঙ্গ রাজনৈতিক ইঙ্গিত হিসেবে উঠে আসে।
সংখ্যালঘু ভোটারদের সমর্থন নিয়ে দাবি
রেজিনগরে ভারতীয় জনতা পার্টির জয়ের প্রসঙ্গে শুভেন্দু দাবি করেন, ওই এলাকার সংখ্যালঘু ভোটাররাও তার দলকে সমর্থন করেছেন।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের গত ছয় মাসের কাজের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত যা দেখা যাচ্ছে, তা কেবল সকালের চা ও বিস্কুটের মতো। মূল কাজের আরও অনেক কিছু বাকি রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা