এবার সোনম ওয়াংচুকের স্কুলে ক্লাস বন্ধের নোটিশ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম
জমি বরাদ্দ বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে আইনি লড়াইয়ের মধ্যেই নতুন জটিলতায় পড়েছে জলবায়ু আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুকের প্রতিষ্ঠান হিমালয়ান ইনস্টিটিউট অব অল্টারনেটিভস, লাদাখ। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির অধীন ডেজার্ট ফ্লাওয়ার স্কুলের ক্লাস ও অন্যান্য কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে লাদাখ প্রশাসন।
লেহের তহসিলদারের জারি করা এ সংক্রান্ত নোটিশ পাঠানো হয়েছে ওয়াংচুকের স্ত্রী এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. গীতাঞ্জলি জে অ্যাংমোর কাছে।
নোটিশে তাকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আদালতে বিচারাধীন মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া কিংবা পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত স্কুলের কার্যক্রম পরিচালনা বা নতুন করে শুরু করার বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিতে নিষেধ করা হয়েছে।
লাদাখ প্রশাসনের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই স্কুলটিতে ক্লাস ও অন্যান্য কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ সেপ্টেম্বর ফিয়াংয়ে এইচআইএএলের অধীনে প্রস্তাবিত ডেজার্ট ফ্লাওয়ার স্কুলের পরিচালনা কমিটির সদস্যদের বিষয়ে অনাপত্তিপত্র চেয়ে লেহের ডেপুটি কমিশনারের কাছে আবেদন করেছিলেন অ্যাংমো।
তবে প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার আগেই স্কুলের কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ প্রশাসনের। এ কারণে জমি বরাদ্দসংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২০১৮ সালের মে মাসে হিমালয় অঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন নিয়ে বিকল্প বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ফিয়াং থাং এলাকায় এইচআইএএলকে ১ হাজার ৭৬ কানাল ১ মারলা জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়। শর্তসাপেক্ষে ৪০ বছরের জন্য জমিটি ইজারা দেওয়ার প্রস্তাব ছিল।
তবে ২০২৫ সালের ২১ আগস্ট ওই জমির বরাদ্দ বাতিল করে লাদাখ প্রশাসন। প্রশাসনের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইজারা চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেনি। পাশাপাশি যে উদ্দেশ্যে জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ও প্রতিষ্ঠা করেনি।
প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় এইচআইএএল। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে মামলার শুনানির সময় বিতর্কিত জমি নিয়ে তৃতীয় পক্ষের অধিকার সৃষ্টি না করতে লাদাখ প্রশাসনকে নির্দেশ দেন আদালত। তবে আদালতের ওই অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে জমি বরাদ্দ বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়নি।
এরপর অক্টোবরে ১৩৬ পৃষ্ঠার একটি হলফনামা দাখিল করে জমি বরাদ্দ বাতিলের পক্ষে নিজেদের যুক্তি তুলে ধরে লাদাখ প্রশাসন।
হলফনামায় প্রশাসন জানায়, জমি বরাদ্দের এক বছরের মধ্যে ইজারা চুক্তি সম্পন্ন করা হয়নি এবং বাধ্যতামূলক জমির প্রিমিয়ামও জমা দেওয়া হয়নি। ফলে ২০১৯ সালের মে মাসেই জমির বরাদ্দ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়।
এ ছাড়া লাদাখের উচ্চশিক্ষা বিভাগের একটি প্রত্যয়নপত্রের বিষয়ও হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এইচআইএএল কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় নয়। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালিত কোর্সগুলোরও আইনগত অনুমোদন নেই।
তবে প্রশাসনের এসব অভিযোগের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছে এইচআইএএল। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যাংমোর দাবি, জমি বরাদ্দের মাত্র ১৫ দিন পর, ২০১৮ সালের ২০ মে, ইজারা চুক্তি সম্পন্ন করার জন্য আবেদন করেছিলেন তারা। এরপরও এ বিষয়ে বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।
সোনম ওয়াংচুকও ইজারা চুক্তি সম্পন্ন করতে প্রশাসনের গড়িমসির অভিযোগ তুলেছেন। তার দাবি, চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে তিনি পাঁচবার লিখিত আবেদন করেছেন, ১৫ বার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গিয়েছেন এবং ৩০ বার ফোন করেছেন।
এ ছাড়া ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেওয়া একটি সরকারি চিঠির কথাও উল্লেখ করেছেন ওয়াংচুক। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই চিঠিতে লাদাখের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে রূপান্তর এবং করোনাভাইরাস মহামারির কারণে সৃষ্ট বিলম্বের বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছিল। একই সঙ্গে ইজারা চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতিও দেওয়া হয়েছিল।
ওয়াংচুকের অভিযোগ, লাদাখে তার আন্দোলন ও সক্রিয়তার কারণে তাকে লক্ষ্যবস্তু করতে জমি বরাদ্দসংক্রান্ত বিরোধকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে প্রশাসনের বক্তব্য, জমি বরাদ্দের নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি