কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়, চাপে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৪৩ এএম

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনী প্রচারণায় ভোটারদের উদ্দেশে অন্তত ৪৭ বার নিজের নাম ব্যালটে রয়েছে ধরে নিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। তবে নির্বাচনের ফলাফল এসেছে তার প্রত্যাশার বিপরীতে। বুধবার সকাল পর্যন্ত প্রতিনিধি পরিষদের জাতীয় ভোটে ডেমোক্র্যাটরা প্রায় ১৩ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন। ১৯৭৬ সালের পর কংগ্রেস নির্বাচনে কোনো দলের জন্য এটিই সবচেয়ে বড় ব্যবধান।

নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ট্রাম্প দাবি করেছেন, ব্যালটে তার নাম থাকলে রিপাবলিকানরা বড় ব্যবধানে জয়ী হতো। তবে সম্ভাব্য এমন পরাজয় মোকাবিলায় হোয়াইট হাউস আগেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিল। গত এপ্রিল থেকেই নতুন আইন ছাড়াই নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহারের বিভিন্ন পথ এবং কংগ্রেসের সম্ভাব্য তদন্ত মোকাবিলার পরিকল্পনা তৈরি করেছিলেন ট্রাম্পের সহযোগীরা।

একদিকে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প, অন্যদিকে তাদের পাস করা বিলে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতাও তার হাতে রয়েছে। আগামী জানুয়ারিতে নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হলে বাজেট, তদন্ত এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগের বিষয়ে তার অবস্থান বড় পরীক্ষার মুখে পড়বে।

ক্ষমতা ও তদন্তের চ্যালেঞ্জ

নির্বাচনী ধাক্কার পরও বিভিন্ন নীতিগত পদক্ষেপ এগিয়ে নেওয়ার চিন্তা করছে হোয়াইট হাউস। নতুন করে শুল্ক আরোপ এবং ভিসার শর্ত আরও কঠোর করার মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় রয়েছে। তবে বাজেট ও বড় ধরনের আইন পাস করতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

এদিকে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসা, প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় এবং জেফরি এপস্টিন সংশ্লিষ্ট নথি নিয়ে তদন্ত শুরু করতে পারেন। প্রয়োজনে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কংগ্রেসের সামনে হাজির হওয়ার নির্দেশও দিতে পারেন তারা।

এ ছাড়া ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরুর সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে অভিশংসনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তাকে পদ থেকে সরাতে সিনেটে দুই তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হবে।

তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় পরাজয় মানেই ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকানদের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাওয়া নয়। আগামী দুই বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতিই দলটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

২০২৮ সালের নির্বাচন ঘিরে নতুন সমীকরণ

নির্বাচনে এই পরাজয় ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে নতুন রাজনৈতিক হিসাব নিকাশের মুখে ফেলেছে। ট্রাম্পের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করবেন কি না, সেই কঠিন সিদ্ধান্তও নিতে হতে পারে তাকে।

ভ্যান্সের পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিসও ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে আগ্রহী হতে পারেন। ফলে দলটির ভেতরে নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আগামী দুই বছরে ডেমোক্র্যাটরা ভোটারদের প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারেন, তার ওপরও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক সমীকরণ অনেকাংশে নির্ভর করবে।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও নির্বাচনের প্রভাব পড়তে পারে। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কিছুটা ধীরগতি অবলম্বন করতে পারে। একই সঙ্গে চীনও দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় ট্রাম্পের রাজনৈতিক দুর্বলতাকে নিজেদের স্বার্থে কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে পারে।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970