ইরান যুদ্ধের কারণেই নির্বাচনে হেরেছি, স্বীকার করলেন জেডি ভ্যান্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৫৭ এএম

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি বলেন, নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ যুদ্ধ। প্রেসিডেন্ট নিজেও আগের রাতে এ কথা বলেছেন।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও স্বীকার করেছিলেন, ইরান যুদ্ধ নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল বলে দাবি করেন তিনি। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভ্যান্সের এমন বক্তব্যকে যুদ্ধের দায় থেকে নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় থাকা ভ্যান্সের এই যুদ্ধ নিয়ে আপত্তি ছিল বলেও আগে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট, উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। এতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে রিপাবলিকানদের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা তৈরি হয়েছে।

নির্বাচনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ট্রাম্পের একটি ছবি প্রকাশ করেছে হোয়াইট হাউস। ছবিতে ওভাল অফিসের ডেস্কের পেছনে কঠোর মুখভঙ্গিতে বসে থাকতে দেখা যায় তাকে। ছবির ওপর লেখা ছিল, ‘জনসাধারণের অবগতির জন্য, ট্রাম্প এখনো আপনাদের প্রেসিডেন্ট।’ পোস্টে আরও বলা হয়, ‘বিষয়টি মনোযোগ দিয়ে দেখার জন্য ধন্যবাদ।’

নির্বাচনের ফলাফলকে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, ট্রাম্পের শুল্কনীতি এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে সাধারণ মানুষের অসন্তোষের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় ডেমোক্র্যাটরা এখন আইন প্রণয়ন, প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত পরিচালনা এবং বিভিন্ন নিয়োগপ্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। তবে ডেমোক্র্যাটদের নেওয়া কোনো আইন নিজের ক্ষমতাবলে আটকে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প।

এদিকে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হবে। বুধবার দেওয়া এক লিখিত বার্তায় তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর পরিবর্তনের সঙ্গে দেশটির আধিপত্যবাদী মনোভাব বদলে যাবে, এমন আশা করা ভুল। ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুতা বন্ধ করতে ছাড় দেওয়ার চিন্তাও সঠিক নয়।

গত মার্চে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর ক্ষমতায় আসেন মোজতবা খামেনি। এরপর থেকে তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। লিখিত বার্তার মাধ্যমেই তিনি নিজের বক্তব্য জানিয়ে আসছেন।

ইরানের প্রধান মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের ফলাফলকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মার্কিন ভোটাররা যুদ্ধের বিরুদ্ধেই রায় দিয়েছেন। অন্যদিকে ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি এজেই মন্তব্য করেছেন, ট্রাম্প সামরিক ও রাজনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই পরাজিত হয়েছেন।

তবে নির্বাচনের দিনও হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, দ্বীপটিতে পরপর পাঁচটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ট্রাম্প বলেছেন, সেখানে একটি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছিল। সেটি নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি এই হামলাকে ছোটখাটো বলে উল্লেখ করেছেন।

অন্যদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড দাবি করেছে, কেশম দ্বীপের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-১ চালকবিহীন বিমান ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরানের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনা ‘পিক্যাক্স মাউন্টেন’সহ এক বা দুটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। মঙ্গলবার ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু করার প্রয়োজন নাও হতে পারে। তবে প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করার কোনো কারণ নাও থাকতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়া ঠেকাতে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তার সরকার। আগে যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব ছিল না, সেগুলো নিয়েও কথা বলার ক্ষমতা সরকারকে দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা।

মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারও সংকট সমাধানে আশাবাদী। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি জানিয়েছেন, কাতারের দেওয়া প্রস্তাব ও ধারণাগুলো উভয় পক্ষ পর্যালোচনা করছে।

অন্যদিকে চীন জানিয়েছে, কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে ইরান যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়া ঠেকানো তাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970