জামায়াতে ইসলামীর নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৮ পিএম
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে হুমকি এবং নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে মারধরের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনকে হেফাজতে নিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা, নিরাপত্তাকর্মীকে লাঞ্ছিত ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা করা হয়। শুক্রবার বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটে মদিনা থেকে আসা একটি ফ্লাইটের যাত্রীদের ব্যাপক চাপের কারণে ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় ট্রলি সংকট দেখা দেয়। এতে যাত্রীরা লাগেজ পেতে বিলম্বের মুখে পড়েন এবং সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
যাত্রীদের ক্ষোভ ও উত্তেজনার মধ্যে ঢাকা ৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের আহ্বানে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ ঘটনাস্থলে যান। তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করার সময় আখতারুজ্জামান তার দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এগিয়ে যান বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় তিনি নির্বাহী পরিচালককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং প্রকাশ্যে হুমকি দেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী সম্পর্কেও অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এজাহারে আরও বলা হয়, আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা প্রটোকল সহকারীরা বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। সেখানে দায়িত্ব পালনরত নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন ভিডিও ধারণে নিষেধ করলে আখতারুজ্জামান ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সাধারণ যাত্রীদের সংগ্রহ করা জমজমের পানির বোতল ট্রলি থেকে ছুড়ে ফেলে ক্ষতিসাধন এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণের অভিযোগও আনা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ডের ফলে বিমানবন্দরের মতো সংরক্ষিত ও স্পর্শকাতর স্থাপনায় সরকারি কর্মকর্তা ও নিরাপত্তাকর্মীদের দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যসহ অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করা হবে। মামলাটি তদন্ত করছেন পুলিশের একজন উপপরিদর্শক।
উল্লেখ্য, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন এর আগে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরবর্তীতে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তার জামায়াতে যোগদানের খবর প্রকাশিত হয়।