ব্যবসার জন্য স্ত্রীর কাছে টাকা চাওয়া যৌতুক নয়, হাইকোর্টের রায়
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪০ পিএম
বিয়ের শর্ত হিসেবে নয়, বরং ব্যবসার প্রয়োজনে স্ত্রীর কাছে টাকা দাবি করাকে যৌতুক হিসেবে গণ্য করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। যৌতুক দাবি ও নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলায় নিম্ন আদালতের দেওয়া দুই বছরের কারাদণ্ড বাতিল করে মো. রাসেল উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে খালাস দিয়েছেন উচ্চ আদালত।
রবিবার (১১ অক্টোবর) বিচারপতি মো. সেলিমের একক হাইকোর্ট বেঞ্চের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি মুসলিম আইন অনুযায়ী রাসেল উদ্দিনের সঙ্গে ইসমত আরা বেগমের বিয়ে হয়। অভিযোগে বলা হয়, ২০১৯ সালের ৪ আগস্ট সন্ধ্যায় কক্সবাজার শহরের বাইতুশ শরফ মসজিদ রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় ব্যবসার জন্য স্ত্রীর কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেন রাসেল। টাকা দিতে অপারগতা জানালে কাঠের লাঠি দিয়ে স্ত্রীকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় করা মামলায় ২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ১ রাসেল উদ্দিনকে দোষী সাব্যস্ত করেন। আদালত তাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন রাসেল।
আপিলের শুনানিতে মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন হাইকোর্ট।
প্রথমত, ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২(ঞ) ধারায় যৌতুকের সংজ্ঞা অনুযায়ী, বিয়ের শর্ত বা বিবেচনা হিসেবে অর্থ কিংবা সম্পত্তি দাবি করার বিষয়টি যৌতুকের আওতায় পড়ে। আদালত পর্যবেক্ষণ করেন, মামলার বাদীসহ সাক্ষীদের জবানবন্দি অনুযায়ী, আসামি ব্যবসার প্রয়োজনে টাকা চেয়েছিলেন। ফলে এই দাবিকে আইনের ওই ধারায় যৌতুক হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই। যৌতুক দাবির অভিযোগ প্রমাণে রাষ্ট্রপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়।
দ্বিতীয়ত, শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগের সঙ্গে চিকিৎসাসংক্রান্ত নথির অসংগতি খুঁজে পান আদালত। বাদী তার জবানবন্দিতে ডান কাঁধ ও পিঠে আঘাতের কথা বললেও চিকিৎসকের বক্তব্য ও চিকিৎসা সনদে বাম কাঁধে আঘাতের কথা উল্লেখ ছিল। সাক্ষ্যের সঙ্গে চিকিৎসা নথির এই পার্থক্য নির্যাতনের অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করে বলে পর্যবেক্ষণ করেন আদালত।
এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নিম্ন আদালতের রায় ও দণ্ডাদেশ বাতিল করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে রাসেল উদ্দিনকে খালাস দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান উচ্চ আদালত।