ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে স্বচ্ছ-বিশ্বাসযোগ্য: প্রধানমন্ত্রী
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩৮ পিএম
ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নিহত ও আহতদের স্বজনদের আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আন্দোলনে সংঘটিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য বিচার নিশ্চিত করা হবে।
বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর ‘জুলাই ৩৬’ শীর্ষক এক আলোচনাসভায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিটি অপরাধের বিচার হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, গত ১৭ বছর এবং জুলাই আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন বা গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন, তাদের স্মরণে নিজ নিজ এলাকায় অন্তত একটি প্রতিষ্ঠানের নামকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের প্রত্যাশা, এই জাদুঘর কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক বয়ান প্রতিষ্ঠার কেন্দ্র হবে না। তার ভাষায়, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান ছিল সমগ্র গণতন্ত্রকামী জনগণের আন্দোলন এবং এর প্রকৃত নায়ক দেশের জনগণ।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের সংগ্রাম, আর ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান ছিল দেশের স্বাধীনতা ও জনগণের অধিকার রক্ষার আন্দোলন। মুক্তিযোদ্ধাদের মতোই ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদেরও জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দেশে অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টার বিষয়ে সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে কেউ যদি অহেতুক ইস্যু সৃষ্টি করে, তবে তা অনিচ্ছাকৃতভাবে পতিত ও পলাতক স্বৈরাচারী শক্তির পুনরুত্থানের সুযোগ তৈরি করছে কি না, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতনভাবে ভাবতে হবে।
দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনামলের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে বর্তমান দিনটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তার দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হাজারো মানুষ গুম, অপহরণ, নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন। শুধু জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানেই বহু ছাত্র-জনতা, নারী ও শিশু প্রাণ হারিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান দমাতে হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালিয়েও গণতন্ত্রকামী মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। তার ভাষায়, পতিত ফ্যাসিস্টদের এমন নৃশংসতা সভ্য বিশ্বে বিরল। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে গুম, খুন ও অপহরণকে শাসনব্যবস্থার অংশে পরিণত করা হয়েছিল, যার নজির স্বাধীনতার পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে তিন বছরের শাসনামলের সঙ্গে তুলনীয়।