টানা ৫ দিন অনশনের পর বিয়ে, ৩ মাস পর মিলল মোনিয়ার ঝুলন্ত মরদেহ
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪৭ পিএম
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের ফুলবাড়ী গ্রামে প্রেমের সম্পর্কের পর টানা পাঁচ দিন অনশন করে বিয়ে করেছিলেন মোনিয়া রহমান মুন্নি। তবে বিয়ের মাত্র তিন মাসের মাথায় স্বামীর বাড়ি থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তাকে হত্যা করে আত্মহত্যা হিসেবে সাজানোর অভিযোগ তুলেছে নিহতের পরিবার।
বুধবার সকালে পুলিশ মুন্নির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহত মোনিয়া রহমান মুন্নি (১৯) ফুলবাড়ী মধ্যপাড়া ভূঁইয়াবাড়ী এলাকার মঞ্জু মিয়ার মেয়ে। তিনি একই গ্রামের লাল মিয়া ভূঁইয়ার ছেলে জিহাদ ভূঁইয়ার স্ত্রী ছিলেন।
নিহতের মা রিনা বেগমের অভিযোগ, বিয়ের আগে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তার মেয়ের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়। পরে বিয়ের পর থেকে মুন্নির ওপর নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ হলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রেমের সম্পর্কের জেরে বিয়ের দাবিতে কয়েক মাস আগে মুন্নি প্রেমিক জিহাদ ভূঁইয়ার বাড়িতে টানা পাঁচ দিন অনশন করেন। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় গত ৩০ এপ্রিল ৯ লাখ টাকা কাবিনে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
নিহতের পরিবারের দাবি, বিয়ের পরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। এ বিষয়ে আগে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করা হয়েছিল। সর্বশেষ মুন্নিকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। পরিবারের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে ঘটনার পর স্বামী জিহাদ ভূঁইয়া ও তার মা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনরা।
গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিন জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। পরিবারের অভিযোগও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।