বিরোধীদের আপত্তির মধ্যেই র‍্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনের বিল পাস

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

বিরোধী দলের নানা আপত্তি ও সমালোচনার মধ্যেই বহুল আলোচিত ‘বিশেষ প্রতিক্রিয়া ব্যাটালিয়ন আইন, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র‍্যাব বিলুপ্ত করে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে ‘বিশেষ প্রতিক্রিয়া ব্যাটালিয়ন’ নামে নতুন একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের বিধান রাখা হয়েছে আইনে।

বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিলটি কণ্ঠভোটে দিলে তা পাস হয়।

এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর বিলটি সংসদে উত্থাপন করা হয়। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। বুধবার কমিটির প্রতিবেদন সংসদে উত্থাপন করা হলেও বিলটির বিভিন্ন ধারায় বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সাতটি আপত্তি জানানো হয়।

পরে সংসদীয় কমিটির সুপারিশসহ বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ সময় বিরোধীদলীয় নেতাসহ বিরোধী সদস্যরা এর তীব্র বিরোধিতা করেন।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, র‍্যাব বিলুপ্ত করে শুধু নতুন নামে একই ধরনের বাহিনী গঠন করলে জনগণ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা পূরণ হবে না। তাই কোনো অবস্থাতেই এ আইন পাস করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিরোধী সদস্যরা আরও বলেন, র‍্যাব বিলুপ্তির পর পর্যাপ্ত জাতীয় পরামর্শ এবং শক্তিশালী ও স্বাধীন জবাবদিহির ব্যবস্থা নিশ্চিত না হলে এসআরবি শেষ পর্যন্ত র‍্যাবেরই নতুন রূপ ধারণ করতে পারে। এ কারণে রাজনৈতিক দল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিচারক, আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনার দাবি জানান তারা।

র‍্যাবের পুরোনো নথি, গুমের আলামত ও রেকর্ডপত্র সরাসরি স্থানান্তরের আগে আলাদা তালিকা তৈরি ও সংরক্ষণের দাবিও তোলা হয়। গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রমাণ যাতে নষ্ট বা পরিবর্তন না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান বিরোধী সদস্যরা।

পাস হওয়া আইনের ৪ ধারায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে বিশেষ প্রতিক্রিয়া ব্যাটালিয়ন নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট থাকবে। এর সদর দপ্তর হবে ঢাকায়। সরকারের প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ ও অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদায়ন বা প্রেষণে নিয়োগের মাধ্যমে বাহিনীটি গঠন করা হবে।

এসআরবির প্রধান হিসেবে থাকবেন মহাপরিচালক। তিনি পুলিশ বাহিনীর অন্তত অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তা হবেন। বাহিনীর প্রশাসনিক, আর্থিক ও পরিচালনাগত কার্যক্রম তার অধীনে থাকবে।

আইনের ১০ ও ১২ ধারায় এসআরবির দায়িত্ব ও ক্ষমতার পরিধি নির্ধারণ করা হয়েছে। জননিরাপত্তা রক্ষা, সন্ত্রাসবাদ, সংঘবদ্ধ অপরাধ, সাইবার অপরাধ, গুম, ভূমিদস্যুতা, মানবপাচার ও মাদক দমনে বাহিনীটি কাজ করবে।

অপরাধী গ্রেপ্তার, তল্লাশি ও আলামত জব্দের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণ করতে হবে। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তি বা জব্দ করা আলামত এসআরবির নিজস্ব হেফাজতে রাখা যাবে না। আইন অনুযায়ী তা দ্রুত নিকটবর্তী থানার কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

বাহিনীর উপপরিদর্শক বা তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আদালত, সরকার বা পুলিশপ্রধানের নির্দেশনা অনুযায়ী এসব অপরাধের আনুষ্ঠানিক তদন্ত পরিচালনা করতে পারবেন।

বিলে বাহিনীর সদস্যদের শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলা, মদ্যপ অবস্থায় থাকা, বেআইনি দখলদারি, হেফাজতে থাকা ব্যক্তির ওপর নির্যাতন বা বেআইনি বলপ্রয়োগ, প্ররোচনা এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আদেশ অমান্যকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

অপরাধ প্রমাণিত হলে বরখাস্ত, পদাবনতি, বাধ্যতামূলক অবসর, বেতন-ভাতা বাজেয়াপ্ত, তিরস্কার ও জরিমানার মতো শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত অভিযোগ বা অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ নিরসনে বিশেষ অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের কথাও বলা হয়েছে।

আইনে বলা হয়েছে, পরিবর্তিত সামাজিক ও ভৌগোলিক পরিস্থিতিতে অপরাধের ধরন ও নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম আধুনিক ও দক্ষ বাহিনী প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই র‍্যাব বিলুপ্ত করে স্বচ্ছতা, পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহির ভিত্তিতে এসআরবি গঠন করা হচ্ছে।

আইন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে র‍্যাবসংক্রান্ত আগের সব বিধান বাতিল বলে গণ্য হবে। একই সঙ্গে বিলুপ্ত র‍্যাবের সব সম্পদ, ব্যাংক হিসাব, তহবিল ও নথি স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসআরবির কাছে ন্যস্ত হবে।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970