‘মাননীয়’ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিজের দপ্তরেই কার্যকর করলেন প্রধানমন্ত্রী

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৮ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর পদবির আগে ‘মাননীয়’ বা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার না করার সরকারি সিদ্ধান্ত নিজের দপ্তর থেকেই বাস্তবায়ন শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দাপ্তরিক শৃঙ্খলার অংশ হিসেবে নিজেও ডিজিটাল পদ্ধতিতে হাজিরা দিচ্ছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ফাইল, নথি ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে পদবির আগে ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

সকালে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে যান প্রধানমন্ত্রী। কার্যালয়ে প্রবেশের আগে তিনি ডিজিটাল পদ্ধতিতে হাজিরা দেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। কাজ শেষে কার্যালয় ছাড়ার সময়ও নির্ধারিত নিয়মে হাজিরা দেওয়ার কথা রয়েছে তার।

এর আগে বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক পরিপত্রে জানানো হয়, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর সঙ্গে দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাদের পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ বা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার করা যাবে না।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এ সিদ্ধান্ত শুধু নির্দেশনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রধানমন্ত্রী নিজের কার্যালয়েই কার্যকর করেছেন। তার কাছে উপস্থাপন করা ফাইল ও সরকারি নথিতে ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’ না লিখে শুধু ‘প্রধানমন্ত্রী’ লেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেওয়ার মাধ্যমে পদমর্যাদার আনুষ্ঠানিক বিশেষণের পরিবর্তে দায়িত্ব, জনসেবা এবং দেশ ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতাকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে দাপ্তরিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে হাজিরার নিয়মও নিজের ক্ষেত্রে কার্যকর করেছেন প্রধানমন্ত্রী। অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর মতো তিনিও নিয়মিত ডিজিটাল হাজিরা দিচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্যোগ প্রশাসনে সময়ানুবর্তিতা, জবাবদিহি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার অংশ। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তি নিজেই দাপ্তরিক নিয়ম মেনে চলায় অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্যও একই নিয়ম অনুসরণের বার্তা আরও স্পষ্ট হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা ও অপ্রয়োজনীয় আড়ম্বর কমাতেও বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সরকারি কার্যক্রম ও প্রচারণায় প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার না করা, প্রটোকলে গাড়ির সংখ্যা কমানো এবং প্রধানমন্ত্রীর চলাচলের সময় সাধারণ মানুষের জন্য ট্রাফিক সিগন্যাল বন্ধ না রাখার মতো উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেছেন তারা।

এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ছাড়া দেশে ও বিদেশে প্রধানমন্ত্রীর চলাচলে পতাকাবাহী গাড়ি ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের মধ্য দিয়ে বিশেষ সুবিধা বা আনুষ্ঠানিক সম্বোধনের পরিবর্তে নিয়ম, দায়িত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দেওয়া হচ্ছে।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970