অপ্রতীমকে হত্যা: আসামিদের জবানবন্দিতে উঠে এল রোমহর্ষক বর্ণনা
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২২ পিএম
কুমিল্লার শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমকে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গলে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ বর্ণনা উঠে এসেছে।
রোববার ২০ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টায় কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।
পুলিশ সুপার জানান, গত ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টা থেকে সোয়া ২টার মধ্যে তুহিন অপ্রতীমকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যায়। পরে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তুহিনকে শনাক্ত করা হয়। অপ্রতীমের মৃত্যুর খবর পাওয়ার আগেই তাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন স্বীকার করে, অপ্রতীমের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেই তাকে নির্জন ওই স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় ফাহাদ ও তার এক বন্ধু জড়িত বলেও জানায় সে।
পরে পুলিশের অভিযানে ফাহাদকে হেফাজতে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ফাহাদ তার আরেক বন্ধু কামরুলের সম্পৃক্ততার কথা জানালে তাকেও হেফাজতে নেয় পুলিশ।
পুলিশ সুপার জানান, তুহিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আইফোন উদ্ধারে প্রথমে তিনটি স্থানে অভিযান চালানো হয়। সেখানে ফোনটি পাওয়া না গেলে পরে তুহিনের বাসায় অভিযান চালানো হয়। এরপর তার দেখানো স্থান থেকে অপ্রতীমের আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার দিন বিকেল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে সানন্দা এলাকার নির্জন বনের ভেতরে অপ্রতীমের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে অপ্রতীম বাধা দিলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়।
একপর্যায়ে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে অপ্রতীমের মাথায় একের পর এক আঘাত করে। এতে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই অপ্রতীমের মৃত্যু হয়। পরে তার মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর আইফোনটি নিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায় তারা।
এ ঘটনায় সিয়াম নামে আরও একজনকে আটক করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে পাওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জেলা পুলিশ সুপার জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তুহিন, ফাহাদ ও কামরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন বা অভিযোগপত্র দাখিলের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।