একনেকে অনুমোদন পেল ১৩ উন্নয়ন প্রকল্প, ব্যয় ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় মোট ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ১১৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। প্রকল্প ঋণ হিসেবে থাকছে ৫ হাজার ২৫২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৩৮২ কোটি ২৮ লাখ টাকা।
অনুমোদন পাওয়া ১৩টি প্রকল্পের মধ্যে ৮টি নতুন প্রকল্প, ৩টি সংশোধিত প্রকল্প এবং ২টি মেয়াদ বৃদ্ধির প্রকল্প রয়েছে।
সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, মহিলা ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, শিল্প, বস্ত্র ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্য সেবা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প রয়েছে। এগুলো হলো ‘ইন্টিগ্রেটেড হেলথ সিস্টেম রেসপন্স তো ফাইট এগেইনস্ট তব, হিভ/এইডস এন্ড ম্যালেরিয়া ইন বাংলাদেশ’ এবং ‘পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন, পটুয়াখালী’ প্রকল্পের প্রথম সংশোধন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্প হলো ‘ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট ২’। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পটি হলো চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে বিদ্যমান শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ এবং মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রতিষ্ঠান রৌফাবাদ, চট্টগ্রামে হোস্টেল ভবন সম্প্রসারণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে মুসাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ ছোট ফেনী ও বামনী নদী অববাহিকায় সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন। অপর প্রকল্পটি মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়া এলাকা রক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পটি ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপের মাধ্যমে ৩টি সিটি করপোরেশন, ১টি পৌরসভা ও ২টি গ্রামীণ উপজেলায় ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি স্থাপন সংক্রান্ত।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে রংপুর বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ এবং মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধন।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের তৃতীয় সংশোধন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পটি র্যাবের কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির দ্বিতীয় সংশোধিত প্রকল্প।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ফেনী জেলার সোনাগাজীতে সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ এবং তিনটি পার্বত্য জেলায় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ।
এ ছাড়া একনেক সভায় পরিকল্পনামন্ত্রীর নিজস্ব ক্ষমতাবলে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়সংবলিত ১৫টি প্রকল্প সম্পর্কেও অবহিত করা হয়।
এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নির্ঝর ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের বিদ্যমান ৩ তলা ভবনের ওপর ৪র্থ, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা সম্প্রসারণ, বিমান বাহিনী ঘাঁটি কুর্মিটোলায় বিএএফ শাহীন কলেজের অবকাঠামো নির্মাণ, আলীকদম সেনানিবাসে আলীকদম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ঢাকা মহানগরী ও পূর্বাচলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন ও অবকাঠামো উন্নয়ন।
এ ছাড়া ১০ জেলায় বিএসটিআইয়ের আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন, রূপসা ৮০০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মিরপুর ইউসেপ শ্রম ও কর্মসংস্থান ইনস্টিটিউট স্থাপন এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের সংশোধনও রয়েছে।
অনুমোদিত ও অবহিত করা প্রকল্পগুলোর মধ্যে কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ী উপজেলায় ধরলা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণসহ নদীর দুই তীর সংরক্ষণ, হবিগঞ্জের বিবিয়ানা বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর সামনে কুশিয়ারা নদীর উভয় তীর প্রতিরক্ষা, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের সড়ক উন্নয়ন ও নিষ্কাশন ব্যবস্থা, সারা দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং ২৩টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পও রয়েছে।
এ ছাড়া ভূঞাপুর থেকে তারাকান্দি জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় ভূপৃষ্ঠস্থ পানি পরিশোধনের পর পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ ও নিরাপদ স্যানিটেশন প্রকল্পও রয়েছে।