সৌদিগামী ৮৯ ফ্লাইট বাতিল, বিপাকে সাড়ে ১৪ হাজার যাত্রী
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম
সৌদি আরবে হুতি গোষ্ঠীর ধারাবাহিক হামলার কারণে দেশটির বিভিন্ন বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ঢাকা থেকে সৌদি আরবগামী ৮৯টি ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন অন্তত ১৪ হাজার ৬৫৫ জন যাত্রী।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরাসরি পরিচালিত ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, রিয়াদ এয়ারের ৭টি এবং সৌদিয়ার ৫টি ফ্লাইট স্থগিত হয়েছে।
এ ছাড়া ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ২২টি, এমিরেটসের ১১টি, কাতার এয়ারওয়েজ ও ফ্লাইদুবাইয়ের ৬টি করে, সালামএয়ারের ৪টি এবং ইজিপ্টএয়ারের ১টি ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে।
ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে সৌদি আরবের আকাশসীমায় নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে দেশটির রাজধানী রিয়াদের বিমানবন্দর ও তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে।
গত শনিবার (১০ অক্টোবর) সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের এমনই এক হামলায় ১২ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি রয়েছেন। এ ছাড়া হামলায় বাংলাদেশিসহ অন্তত ৩০৯ জন আহত হন।
সবশেষ গত রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে ওই বিমানবন্দরে আবারও হামলা চালায় হুতি গোষ্ঠী। এ ঘটনায় একজন পাকিস্তানি নাগরিক নিহত এবং ১১ জন আহত হন। এ নিয়ে এক সপ্তাহে রিয়াদ বিমানবন্দরে অন্তত পাঁচবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবারের হামলায় এক পাইলটসহ তিন সৌদি নাগরিক নিহত হন।
হুতিরা ওই দিন বিমানবন্দরের পাশাপাশি সৌদিয়া এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজেও হামলা চালায়। ওই ঘটনায় পাইলটের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রায় দুই মাস ধরে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটছে। এ সংঘাতে রিয়াদ বিমানবন্দরকে অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে হুতিরা।
এর আগে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি হুমকি দিয়েছিল, কোনো বিমানসংস্থা সৌদি আরবের আকাশসীমা দিয়ে উড়োজাহাজ পরিচালনা করলে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে। ওই হুমকির পর রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলা চালানো হয়। হামলার পর কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ ওঠানামা স্থগিত রাখা হয়। এখনো এ বিধিনিষেধ বহাল থাকায় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ছয় শতাধিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।