পরিচ্ছন্ন ও সবুজ বাংলাদেশ গড়তে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২২ পিএম
ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং পরিচ্ছন্ন ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তরুণ প্রজন্মকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর দেশ গড়ে তুলতে এখন থেকেই কাজ শুরু করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
শনিবার, ১৭ অক্টোবর, রাজধানীর মিরপুর বাংলা কলেজ পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর ও স্কাউট সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে তরুণরাই দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেবে। তাই আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলার দায়িত্ব তাদের এখন থেকেই গ্রহণ করতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ আয়তনের তুলনায় অত্যন্ত জনবহুল একটি দেশ। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষের বসবাস। এত মানুষের শহর পরিচ্ছন্ন রাখা কঠিন হলেও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে তা সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় তরুণেরা যখন পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেয়, তখন অল্প সময়ের মধ্যেই একটি এলাকা পরিষ্কার করা সম্ভব হয়। তবে এ ধরনের উদ্যোগ শুধু নির্দিষ্ট কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। নিজেদের উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতার কাজ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বন্ধু, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদেরও সচেতন করতে হবে।
পরিচ্ছন্ন পরিবেশের সঙ্গে জনস্বাস্থ্যের সম্পর্ক তুলে ধরে তিনি বলেন, পরিবার ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার থাকলে পরিবারের সদস্যদের সুস্থ থাকার সম্ভাবনা বাড়ে। অন্যদিকে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ বিভিন্ন রোগব্যাধির ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিপুলসংখ্যক মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়লে সবাইকে চিকিৎসা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও ওষুধের ব্যবস্থা করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তাই মানুষের সুস্থতা নিশ্চিত করতে হলে সবার আগে পরিবেশ পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর ডেঙ্গুতে বহু মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন এবং অনেকে প্রাণ হারাচ্ছেন। এই রোগের বিস্তার রোধে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগে আগামী নভেম্বর পর্যন্ত প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে।
রাস্তা, খাল, নদী ও জলাশয়ে ময়লা আবর্জনা ফেলার প্রবণতা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এসব বর্জ্য জমে পরিবেশ দূষিত হয়। পাশাপাশি রোগজীবাণু ছড়ানো এবং মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর ও স্কাউট সদস্যদের মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কেউ রাস্তায় ময়লা ফেললে তাকে বুঝিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার বিষয়ে উৎসাহিত করতে হবে। প্রয়োজনে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, এই উদ্যোগ শুধু ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, বরং সবার কল্যাণে।
ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহরগুলোর মধ্যে ঢাকার অবস্থান প্রায়ই ওপরের দিকে থাকে, যা অত্যন্ত বিব্রতকর। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ করতে হবে।
বৃক্ষরোপণে নিজের অতীত উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, তার বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত একটি সংগঠনের মাধ্যমে ২০০৪ থেকে ২০০৫ সালের দিকে শুধু ঢাকা শহরেই প্রায় ৮০ হাজার নিমগাছের চারা রোপণ করা হয়েছিল।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এখন তাদের আগের উদ্যোগকে ছাড়িয়ে আরও বেশি গাছ লাগাতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে তরুণেরা এ লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এ সময় সৌদি আরবের আরাফাতের ময়দানে নিমগাছ রোপণের ইতিহাসও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, একসময় আরাফাতের ময়দান প্রায় বৃক্ষশূন্য ছিল। পরে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সেখানে নিমগাছের চারা পাঠান। বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের পরামর্শে সৌদি আরবের আবহাওয়ার উপযোগী গাছ হিসেবে নিম নির্বাচন করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সেখানে নিমগাছের বিস্তার ঘটে, যা বর্তমানে জিয়া ট্রি নামে পরিচিত।
পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে জাপানের উদাহরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশটির রাস্তাঘাটে খুব কম ময়লা আবর্জনা দেখা যায়। এর পেছনে নিয়মিত পরিষ্কার করার ব্যবস্থা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি মানুষের ময়লা না ফেলার অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নদীনালা, খালবিল ও জলাশয় পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, পরিবেশ ও পানিদূষণ রোধে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। যত্রতত্র প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন, খাবারের প্যাকেট ও অন্যান্য বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে হবে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর ও স্কাউট সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবাই সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করলে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। ভবিষ্যৎ তরুণদের হাতেই, তাই দেশকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও স্বাস্থ্যকর করে গড়ে তোলার দায়িত্বও তাদের নিতে হবে।