সৌদি আরবে কারাবন্দি সাড়ে ৭ হাজার বাংলাদেশি: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৭ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরের কারাগারে বিভিন্ন অভিযোগ ও অপরাধে দণ্ডিত হয়ে বন্দি রয়েছেন প্রায় সাড়ে ৭ হাজার বাংলাদেশি। এসব বন্দির বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ সরকারকে তালিকা দিয়ে অবহিত করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। তবে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পায়নি সরকার। এ ঘটনায় তাদের মামলার রায়ের অনুলিপি চেয়ে সৌদি সরকারের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সৌদি আরবে হুতিদের হামলায় নিহত বাংলাদেশি কর্মী শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ ঢাকায় ফেরার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

তিনি বলেন, সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরের কারাগারে বর্তমানে কমবেশি সাড়ে ৭ হাজার বাংলাদেশি বন্দি রয়েছেন বলে সরকারের কাছে তথ্য রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ বন্দিদের তালিকা পাঠায় এবং তাদের বিভিন্ন দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিষয়টি জানায়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির নাম ওই তালিকায় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ওই দুই বাংলাদেশিকে শিরশ্ছেদ করার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ এখনো বিস্তারিত তথ্য দেয়নি। এ বিষয়ে সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ডেকে কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়ে তাদের মামলার রায়ের অনুলিপি চাওয়া হয়েছে। রায়ের অনুলিপি পাওয়া গেলে ঘটনার বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রত্যেক দেশের নিজস্ব আইনি কাঠামো ও বিচারব্যবস্থা রয়েছে। সেই ব্যবস্থার আওতায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলো সিদ্ধান্ত নেয় এবং তা কার্যকর করে। তবে কোনো বিদেশি নাগরিক নিহত হলে বা তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে, সে বিষয়ে বাংলাদেশের বিস্তারিত তথ্য জানা প্রয়োজন। এ কারণেই সৌদি সরকারের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে কিছুটা ধৈর্য ধরতে হবে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের দুর্ভোগের প্রসঙ্গ তুলে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বিদেশে কাজ করতে গিয়ে বাংলাদেশিরা নানা ধরনের ঝুঁকি ও দুর্ভোগের মুখোমুখি হন। বিদেশে যেতে তাদের অনেক টাকা খরচ করতে হয়, যা অনেক দেশের তুলনায় বেশি। এর পেছনে মধ্যস্বত্বভোগী ও দালাল চক্রের ভূমিকা রয়েছে। বিপুল অর্থ ব্যয় করে বিদেশে যাওয়ার পর কেউ লাশ হয়ে দেশে ফিরলে তা তার পরিবারের পাশাপাশি সরকারের জন্যও অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন এবং সরকার কাজ করছে। তবে প্রতিটি বিষয়ে নির্দিষ্ট আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। সেই প্রক্রিয়া শেষ হলে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার লক্ষ্যেও কাজ চলছে।

গত ১০ অক্টোবর সৌদি আরবের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের হামলায় নিহত হন বাংলাদেশি কর্মী শাহেদ আহম্মেদ। তার বাড়ি বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে।

শাহেদ সৌদি আরবের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জেদ্দা প্রকল্পে প্লাম্বার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বৈধ কাজের অনুমতিপত্র বা ইকামা ছিল। বাংলাদেশে এক মাসের ছুটি কাটিয়ে রিয়াদ হয়ে জেদ্দায় কর্মস্থলে ফিরছিলেন তিনি। রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার সময় সেখানে অবস্থান করছিলেন শাহেদ। ওই হামলায় তার পাশাপাশি আরও এক বাংলাদেশি নিহত হন।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970