আজ বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, গণতন্ত্র ও সুশাসন শক্তিশালী করার প্রত্যয়

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২০ এএম

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। নানা রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে ১৯৭৮ সালের এই দিনে প্রতিষ্ঠিত দলটি দীর্ঘ পথ পেরিয়ে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা দলটির রাজনীতির নেতৃত্ব এখন দ্বিতীয় প্রজন্মের হাতে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির নেতারা বলছেন, জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র ও সুশাসনের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করাই তাদের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামনে দলটির বড় চ্যালেঞ্জ হবে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের চর্চা, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনগণের আস্থা ও জনপ্রিয়তা ধরে রাখা।

১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসেন জিয়াউর রহমান। একদলীয় বাকশাল ব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথে যাত্রায় তিনি বিভিন্ন উদ্যোগ নেন। প্রথমে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) গঠনের পর ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন মত, পথ ও আদর্শের মানুষ এবং তরুণদের নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। দলটির প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

দেশের অখণ্ডতা রক্ষার পাশাপাশি বহুদলীয় গণতন্ত্র, অর্থনীতি, কৃষি, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়াক্ষেত্রে নানা উদ্যোগ নেন জিয়াউর রহমান। ধর্মীয় ও জাতিগত বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারণাও সামনে আনেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ক্ষমতাকে কেন্দ্র করে অনেক রাজনৈতিক দল গঠিত হলেও সময়ের সঙ্গে সেগুলোর অনেকেই টিকে থাকতে পারেনি। তবে বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শের কারণেই দলটি দীর্ঘদিন ধরে টিকে আছে।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের দেওয়া ১৯ দফা কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধানের পথ ছিল। ফলে মানুষ বিএনপির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এই রাজনীতি মানুষের মনে আশা ও বিশ্বাস তৈরি করেছে, যা এখনও বিদ্যমান। বিএনপি দেশের মানুষের জাতীয় সত্তার একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—তারা বাংলাদেশি।

জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর গৃহবধূ থেকে রাজনীতিতে এসে বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন খালেদা জিয়া। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি দলটিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান। তবে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় বিএনপিকে নানা ঘাত-প্রতিঘাত ও প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। এসবের মধ্যেও দলটি নিজেদের গণমানুষের দল হিসেবে দাবি করে আসছে।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিএনপি বরাবরই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। ক্ষমতার বাইরে কিংবা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা—দুই সময়েই নানা ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে দলটিকে টিকে থাকতে হয়েছে। ভবিষ্যতেও বিএনপি টিকে থাকবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা কর্মসূচি পরবর্তী সময়ে সম্প্রসারিত হয়ে ৩১ দফায় রূপ নেয়। জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার পর দলের নেতৃত্ব এখন তারেক রহমানের হাতে। জুলাই-পরবর্তী নির্বাচনে তার নেতৃত্বে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে দীর্ঘ সময় পর রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। ফলে পুরোনো দলের নেতৃত্বে নতুন প্রজন্মের এই সময়ে জিয়া ও খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক দর্শন কতটা কার্যকরভাবে অনুসরণ করা হবে, সেটিই এখন আলোচনার বড় বিষয়।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিএনপি কখনও মূল রাজনৈতিক আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়নি। দলটি গণতন্ত্রের জন্য কাজ করেছে এবং এ ক্ষেত্রে কখনও আপস করেনি।

স্বাধীনতার পর গড়ে ওঠা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপিই ব্যাপক জনভিত্তি তৈরি করে দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকার দাবি করতে পারে। এ কারণে দলটিকে আরও সহনশীল হওয়ার পাশাপাশি জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সোহরাব হাসান বলেন, সর্বশেষ নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয় পেয়েছে। তবে এই সাফল্য কতটা টেকসই হবে, তা নির্ভর করবে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো দলটি কতটা বাস্তবায়ন করতে পারে তার ওপর।

দীর্ঘদিন মামলা ও গ্রেফতারের কারণে রাজনৈতিক চাপে থাকা বিএনপি এখন রাষ্ট্রক্ষমতায়। কিছু ক্ষেত্রে সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা থাকলেও গণতন্ত্র হরণ কিংবা আইনের শাসন বিনষ্টের অভিযোগ দলটির বিরুদ্ধে ওঠেনি এমন মত দিয়েছেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970