আওয়ামী লীগের সময় আপসহীন ভূমিকা রেখেছেন আব্বাসী হুজুর: রাশেদ খান
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম
আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে নানা চাপের মধ্যেও ইসলামের পক্ষে আপসহীন অবস্থান ধরে রেখেছেন আল্লামা ড. সৈয়দ মুহাম্মদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী। এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী মুহাম্মদ রাশেদ খান।
রোববার (১১ অক্টোবর) আব্বাসী মঞ্জিল জৈনপুরী দরবার শরিফে আল্লামা এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন রাশেদ খান। এ সময় তিনি ইসলামের পক্ষে আব্বাসীর সোচ্চার ভূমিকা, বিভিন্ন আন্দোলনে অংশগ্রহণ এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র জনতার পক্ষে অবস্থানের প্রশংসা করেন।
রাশেদ খান বলেন, আল্লামা আব্বাসীর বক্তব্য তিনি প্রায়ই শোনেন। আব্বাসী সব সময় ইসলামের পক্ষে সোচ্চার থাকেন। অনেকেই নানা কৌশলে ইসলামের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করলেও কখনো কখনো তাদের বক্তব্য ইসলামের বিপক্ষে চলে যায়। তবে এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর বক্তব্য বরাবরই ইসলামের পক্ষে থাকে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরবিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে রাশেদ খান বলেন, আন্দোলনের প্রথম দিন বর্তমান সরকারের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরসহ কয়েকজন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। পরদিন হেফাজতে ইসলাম আন্দোলনে যুক্ত হয়। সে সময় আল্লামা আব্বাসীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তিনি দেখেছেন। আব্বাসী মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছেন এবং আন্দোলনকারীদের মধ্যে পানি বিতরণসহ বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহ দিয়েছেন।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে অনেক আলেম ওলামাকে আপস করতে দেখা গেলেও আল্লামা আব্বাসীকে তিনি আপস করতে দেখেননি। বরং তিনি ছাত্র জনতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। বিভিন্ন আন্দোলনেও তার ভূমিকা প্রশংসনীয় ছিল বলে উল্লেখ করেন রাশেদ খান।
আল্লামা আব্বাসীর সঙ্গে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রাশেদ খান বলেন, তার দোয়া নেওয়া এবং সালাম জানাতেই তিনি দরবার শরিফে এসেছেন। আব্বাসীর আন্তরিকতা তাকে মুগ্ধ করেছে। তার সঙ্গে বুকে বুক মিলিয়ে যে প্রশান্তি পেয়েছেন, সেই অনুভূতির খোঁজেই যেন সেখানে গিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।
রাশেদ খান জানান, সাক্ষাতের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য দোয়া চেয়েছেন। পাশাপাশি একজন ইসলামি চিন্তাবিদ হিসেবে সরকারের প্রতি আল্লামা আব্বাসীর কোনো পরামর্শ থাকলে তা তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
দেশ পুনর্গঠনে সরকারের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে রাশেদ খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ পুনর্গঠনে কাজ করছেন। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে আল্লামা আব্বাসীর সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিগুলোর মধ্যে ঐক্য বজায় রাখতে একজন গ্রহণযোগ্য আলেম হিসেবে আব্বাসীর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আল্লামা আব্বাসীর বিভিন্ন সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খান বলেন, তখন তার বক্তব্য নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে তার অনেক বক্তব্যের যথার্থতা স্পষ্ট হচ্ছে। ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি অনুধাবন করতে পারা একজন আলেমের গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাশেদ খান আরও বলেন, বিএনপি সব সময় ইসলামি মূল্যবোধ ধারণ করে কাজ করার চেষ্টা করে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মতো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যেও ইসলামি মূল্যবোধের চেতনা রয়েছে। দেশের আলেম সমাজের সঙ্গে বিএনপির হৃদয়ের সম্পর্ক রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে আল্লামা আব্বাসীর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করে রাশেদ খান বলেন, ইসলামের খেদমতে একজন খাদেম হিসেবে আব্বাসী যে ভূমিকা পালন করছেন, তা প্রশংসনীয়। তার আন্তরিকতা ও ভালোবাসায় তিনি মুগ্ধ হয়েছেন।