সীতাকুণ্ডে মাদক কারবারিকে পিটিয়ে হত্যার পর বাড়িঘরে আগুন
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৮ পিএম
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় গণপিটুনিতে মোহাম্মদ নুর ইসলাম ইরান নামে এক কথিত মাদক কারবারি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা তার বসতবাড়িসহ সহযোগীদের কয়েকটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে প্রায় ৩০টি ঘর, তিনটি মোটরসাইকেল ও একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা পুড়ে যায়।
শনিবার (২৫ জুলাই) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম ভাটেরখীল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নুর ইসলাম ইরান দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগে এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত সোমবার কিশোর নাঈম উদ্দিন (১৬) ও ইমরান হোসেন (১৭) তার মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে ইমরান অর্থ দিয়ে প্রাণে বাঁচলেও নাঈমকে গুরুতর আহত অবস্থায় তার বাড়ির সামনে ফেলে রেখে যায় হামলাকারীরা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। টানা পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার রাতে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নাঈমের পরিবার নুর ইসলাম ইরানকে প্রধান আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নাঈমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় নাঈমের চাচাকে মুঠোফোনে কল করে মরদেহ এলাকায় না আনার জন্য হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এছাড়া নাঈমের জানাজা শেষে ইরান ও তার সহযোগীরা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে আতশবাজি ফোটায় বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহাবুদ্দিন দাবি করেন, ইরান ও তার সহযোগীদের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি—এমন মানুষ এলাকায় খুব কমই আছে। তার মৃত্যুর পর এলাকায় স্বস্তির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এক নারী ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। ফলে সাধারণ মানুষ নিরাপদে বসবাস করতে পারছিলেন না।
নিহত নাঈমের চাচা রুহুল আমিন বলেন, তার ভাতিজাকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। মরদেহ বাড়িতে আনার সময়ও তাকে মুঠোফোনে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এদিকে নুর ইসলাম ইরানের ছেলে রিফাত বলেন, তার বাবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন এবং আইন অনুযায়ী বিচার হওয়া উচিত ছিল। তবে পরিবারের বসতভিটা ও সম্পত্তিতে আগুন দিয়ে ধ্বংস করে দেওয়া অনুচিত হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মুরাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. এজহারুল ইসলাম জানান, শনিবার সন্ধ্যায় নাঈমের জানাজা শেষে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে রাত দেড়টার দিকে এলাকাবাসী নুর ইসলাম ইরানকে দেখতে পেয়ে গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এরপর বিক্ষুব্ধ জনতা তার সহযোগীদের কয়েকটি বাড়িতেও হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে।
সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর বলেন, নুর ইসলাম ইরানের বিরুদ্ধে দুটি হত্যা মামলাসহ একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। নাঈমের মৃত্যুর পর স্থানীয়দের গণপিটুনিতে তিনি নিহত হয়েছেন। ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।