সার না পেয়ে কুড়িগ্রামে কৃষকদের সড়ক অবরোধ, কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৮ পিএম
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে চাহিদা অনুযায়ী সার না পাওয়ায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কয়েক শ কৃষক। এ সময় সারের দাবিতে বল্লভেরখাস ইউনিয়নের এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে তাঁর ও সার ডিলারের অপসারণ দাবি করেন তাঁরা। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আশ্বাসে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেন কৃষকেরা।
শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত উপজেলার বল্লভেরখাস ইউনিয়নের গাবতলা বাজার এলাকায় বিসিআইসির পরিবেশক মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্সের সামনে এ অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামকে অবরুদ্ধ করেন কৃষকেরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবি মৌসুমে আমন, বেগুন, বিভিন্ন ধরনের সবজি, ভুট্টাসহ নানা ফসলের চাষাবাদ শুরু হওয়ায় এলাকায় সারের চাহিদা বেড়েছে। তবে চাষাবাদের শুরু থেকেই কৃষকেরা প্রয়োজন অনুযায়ী সার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করছেন।
শুক্রবার সকালে গাবতলা এলাকার কৃষকদের জন্য নির্ধারিত ডিলারের কাছে সার বিক্রির খবর ছড়িয়ে পড়লে কয়েক শ কৃষক সেখানে জড়ো হন। পরে সার নিতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ান তাঁরা। একপর্যায়ে বরাদ্দ করা সার শেষ হয়ে গেছে জানিয়ে বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হলে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন কৃষকেরা।
এরপর ডিলার ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ শুরু করেন তারা। একই সঙ্গে দুজনের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ করেন কৃষকেরা।
খবর পেয়ে কচাকাটা থানা পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন। পর্যায়ক্রমে সবাইকে সার দেওয়ার আশ্বাস দিলে তাঁরা অবরোধ তুলে নেন। পরে অবরুদ্ধ উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সহায়তায় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে কচাকাটা থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
কৃষক ওমর ফারুক বলেন, এক সপ্তাহ আগেও কচাকাটায় সারের জন্য আন্দোলন হয়েছিল। তখন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সার সংকট সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু এখনো সমস্যার সমাধান হয়নি। দিন যত যাচ্ছে, সার সংকট ততই বাড়ছে।
গাবতলা গ্রামের কৃষক মজিবর বলেন, সারের সংকটের কারণে চাষাবাদে সমস্যা হচ্ছে। অনেক হয়রানির পরও সার পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে সবাই মিলে সড়ক অবরোধ করেছেন।
একই গ্রামের কৃষক আব্দুস সালাম বলেন, ডিলারের কাছে গেলে সার নেই বলে জানানো হয়। অনেক দিন ধরে ঘুরেও সার পাওয়া যায়নি। শুক্রবার লাইনে দাঁড়ানোর পর জানতে পারেন সার শেষ হয়ে গেছে। কৃষি কর্মকর্তারা যদি বলেন সারের সংকট নেই, তাহলে কৃষকেরা সার পাচ্ছেন না কেন, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্সের মালিক জীবিত নেই বলে জানা গেছে। তার প্রতিনিধি খায়রুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার হোসেন বলেন, তাদের কাছে পর্যাপ্ত সার মজুদ রয়েছে। শুক্রবার দুটি পয়েন্ট থেকে সার বিতরণের কথা ছিল। একটি পয়েন্টের সার শেষ হয়ে যাওয়ায় কৃষকেরা সার না পেয়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করেন। অন্য পয়েন্ট থেকে কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা কিছু সময়ের জন্য সড়ক অবরোধ করেছিলেন। একসঙ্গে অনেক কৃষক সার নিতে যাওয়ায় এবং অনেকে সার না পাওয়ায় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তাদের বুঝিয়ে বলা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সবাই সার পাবেন। সার বিতরণে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর একই উপজেলার বেরুবাড়ী, বামনডাঙ্গা ও রামখানা ইউনিয়নেও সার না পাওয়ার অভিযোগে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছিলেন কৃষকেরা।