ভাইরাল ভিডিও নিয়ে এবার থানায় গেলেন সেই বিউটি রাণী
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৫ পিএম
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে অপপ্রচার, বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো এবং সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রাণী পাল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
শনিবার (২৬ জুলাই) ফেঞ্চুগঞ্জ থানায় তিনি জিডি দায়ের করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান।
জিডিতে বিউটি রাণী পাল উল্লেখ করেন, একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তার গান পরিবেশনের ভিডিও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তার অভিযোগ, ‘আসিফ ইকবাল ইরন’ নামের একটি ফেসবুক আইডি তার নামে বিভ্রান্তিকর পোস্ট প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি ‘ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিদিন’ নামের একটি ফেসবুক পেজ তার নাম ও ভিডিও ব্যবহার করে এমনভাবে সংবাদ প্রকাশ করেছে, যা প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তিনি আরও বলেন, ভিডিওটির একটি সংক্ষিপ্ত অংশ প্রাসঙ্গিক তথ্য ছাড়া প্রচার করায় তার ব্যক্তিগত, সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে। বিকৃতভাবে উপস্থাপিত ভিডিওকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ফেসবুক পেজ ভুল তথ্য ছড়িয়ে তাকে মানসিকভাবে হয়রানির মুখে ফেলছে।
এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান জানান, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জিডিতে উল্লেখ করা ফেসবুক আইডিগুলো শনাক্ত করতে সেগুলো তথ্যপ্রযুক্তি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ‘ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিদিন’ এবং ‘ইব্রাহিম খলিল’ নামের ফেসবুক আইডির বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগে কয়েকটি ফেসবুক আইডি থেকে প্রধান শিক্ষিকাকে অপমানজনক ও সম্মানহানিকরভাবে উপস্থাপনের অভিযোগ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, তার ব্যক্তিগত কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট নেই এবং তিনি বিষয়টি গণমাধ্যমের মাধ্যমে জেনেছেন। ভিডিওটি এখনো তিনি দেখেননি।
তিনি বলেন, যারা ভিডিওটি দেখেছেন তাদের কাছ থেকে জেনেছেন, সেখানে কোনো অশ্লীলতা নেই। যদি সত্যিই ভিডিওটিতে অশ্লীল কিছু না থাকে, তাহলে শুধু গান গাওয়াকে তিনি অন্যায় মনে করেন না। তবে ভিডিওটি নিজে না দেখে এ বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। এর আগে শিক্ষক, লেখক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রাণী পালের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন।