আলিফের চোখ হারানোর ঘটনায় ফেসবুকে সমালোচনার ঝড়, প্রশংসাও পাচ্ছেন অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা!

সারাদেশ ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৪ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে সংঘর্ষে জাতীয় ছাত্রশক্তির নবীগঞ্জ উপজেলা সংগঠক আলিফ চৌধুরীর একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা নাজমুল হোসেন অনির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানানো হচ্ছে, অন্যদিকে নিজ দলের কিছু কর্মী-সমর্থকের কাছ থেকে তিনি প্রশংসাও পাচ্ছেন।

জানা গেছে, হামলার দিন হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে পৃথক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই কর্মসূচির প্রচারণায় অংশ নিয়ে বিক্ষোভ সফল করার আহ্বান জানিয়েছিলেন হবিগঞ্জ সদর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব নাজমুল হোসেন অনি।

আলিফের চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঘটনায় ফেসবুকে বিভিন্ন ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মো. শিমুল নামে একজন লিখেছেন, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং যারা পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। সোহানুর রহমান নামে আরেকজন ব্যঙ্গ করে মন্তব্য করেন, অভিযুক্তকে নাকি পুরস্কার হিসেবে জেলা ছাত্রদলের শীর্ষ পদ দেওয়া হতে পারে।

এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা সারজিস আলম এক পোস্টে দাবি করেন, হামলায় আলিফের একটি চোখ চিরতরে নষ্ট হয়েছে এবং এ ঘটনায় হবিগঞ্জ সদর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব নাজমুল হোসেন অনির বিচার হবে কি না—সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।

নিজাম উদ্দিন নামে এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার প্রতি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে লেখেন, উত্তেজনাপূর্ণ রাজনৈতিক বক্তব্যের পরিণতিতে সাধারণ মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অথচ শেষ পর্যন্ত তাদেরই ক্ষত নিয়ে বেঁচে থাকতে হয়।

অন্যদিকে অভিযুক্ত নাজমুল হোসেন অনির পক্ষেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু পোস্ট দেখা গেছে। অনিক দাস অনল নামে একজন আলিফের ওপর হামলার একটি ছবি শেয়ার করে অনিকে ট্যাগ দিয়ে লেখেন, ‘নাজমুল হোসেন অনি বন্ধু, তুই তো ভাইরাল। মারটা কিন্তু সেরা দিছিলি।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল-সমর্থিত সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী খাদিজাতুল কুবরা এক পোস্টে দাবি করেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে নিয়ে মন্তব্য করলে জনগণ তা মেনে নেবে না এবং এ ধরনের ব্যক্তির রাজনীতি করার অধিকার নেই বলেও মন্তব্য করেন।

জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে হবিগঞ্জ টাউন হলের সামনে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ ও সমাবেশ শেষে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এনসিপি এ হামলার জন্য বিএনপিকে দায়ী করেছে। পরে শহরে প্রতিবাদ মিছিল বের হলে আরও এক দফা সংঘর্ষ হয়। এতে এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমসহ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত হন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা আলিফ চৌধুরী।

ঘটনার রাতেই আলিফকে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল থেকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে তাকে ঢাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে সেখানে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচার সফল হলেও আহত চোখের দৃষ্টিশক্তি আর ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।

চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, আঘাতে আলিফের চোখের রেটিনাসহ গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ অংশ সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিটি স্ক্যানেও চোখের ভেতরে রক্ত জমাট বাঁধার প্রমাণ মিলেছে। ফলে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চোখের গঠন কিছুটা ঠিক করা গেলেও দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। বিদেশে চিকিৎসা নিলেও এ অবস্থার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলেও জানিয়েছেন তারা।

পারিবারিক সূত্র জানায়, দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে আলিফ একজন। তার বাবা অসুস্থ এবং মা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। তিনি হবিগঞ্জের একটি স্থানীয় স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইন্টারমিডিয়েট দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: জাহিদুল ইসলাম

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970